সর্বশেষ

জাতীয়জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা
সংসদে স্লোগান দেওয়া রেওয়াজের বাইরে : স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে আজ সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে
সারাদেশসিলেটের গোয়াইনঘাটে পোল্ট্রি ফার্মে জবাই করা কিশোরের লাশ উদ্ধার, পাশেই খোঁড়া কবর
নারায়ণগঞ্জে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ আটক
আন্তর্জাতিকইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার তেল নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘বেঁচে থাকলেও গুরুতর আহত’: ট্রাম্প
খেলাট্রাম্পের বক্তব্যের জবাব: ‘ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে কেউ বাদ দিতে পারবে না’
মতামত

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশের যাত্রা

রবিউল করিম মৃদুল
রবিউল করিম মৃদুল

শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬ ৬:৪৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
গত ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদি শাসনের পতনের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে শুরু হওয়া এ অধিবেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের এক নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হলো।

সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নতুন যুগে প্রবেশ করল দেশ। দীর্ঘ দিনের অকার্যকর সংসদ লাভ করল নতুন জীবন। এ কারণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এ দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের জাতীয় সংসদ বহু ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী। কখনো সেখানে উচ্চারিত হয়েছে স্বাধীনতার স্বপ্ন, কখনো শোনা গেছে চরম রাজনৈতিক সংকটের প্রতিধ্বনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন যেন সেই দীর্ঘ ইতিহাসের ভেতরে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এ কারণে এটি শুধু একটি সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার ঘটনা নয়। এটি বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন, রক্ত ও প্রত্যাশার ভেতর দিয়ে জন্ম নেওয়া এক নতুন গণতান্ত্রিক সময়ের দরজা খুলে যাওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

এই সংসদের জন্মের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক অধ্যায়—জুলাই গনঅভ্যুত্থান। যে জুলাইয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল তরুণেরা, নেমেছিল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ, নাগরিক সমাজ, দেশের নারীরা, রিকশাওয়ালা, ভ্যানওয়ালা থেকে শুরু করা আপামর খেটে খাওয়া মানুষ। নেমেছিল ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রতিটি রাজনৈতিক শক্তি। সকলের কণ্ঠে সমস্বরে উচ্চারিত হয়েছিল দীর্ঘদিনের দমবন্ধ রাজনৈতিক পরিবেশের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের নতুন দাবি। সেই আন্দোলন শুধু ক্ষমতার প্রশ্ন ছিল না, ছিল রাষ্ট্রের চরিত্র বদলে দেওয়ার দাবি। ছিল দেশের শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও সংস্কারের দাবি।

জুলাইয়ের সেই উত্তাল সময়, অগ্নিঝরা স্লোগান, আর রক্তঝরা দিনগুলো শেষ পর্যন্ত দেশকে নিয়ে আসে একটি অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে। যেখানে অভ্যুত্থানপরবর্তী রাজনৈতিক সমঝোতা, আন্তর্জাতিক চাপ ও জনমতের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় গঠিত হয় একটি অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল দেশের মানুষের ওপর চালানো নজিরবিহীন গণহত্যার বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন। অন্তর্বর্তী সরকার বিচার ও সংস্কার উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিলেও তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশকে একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে নিয়ে যাওয়া। অনেক সংশয়, সীমাহীন আশঙ্কা আর নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়েও সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ  নির্বাচন। দীর্ঘ সময় পরে বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি নির্বাচনের স্বাদ পেল, যেখানে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে ফলাফল অনুমান করে নেওয়ার কোনে সুযোগ ছিল না। ছিল না দিনের ব্যালট রাতে ভরে রাখার পায়তারা। ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল দৃশ্যমান, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল স্পষ্ট এবং নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতেও তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। নির্বাচনের দিন সহিংসতাতায় একটিও প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেনি। এজন্য অন্তর্বতী সরকার এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষভাবে ধনী পাওয়ার যোগ্য।

স্মরণকালের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে এবার। এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, রাজপথের আন্দোলন, কারাবরণ, নেতাকর্মীদের ওপর সীমাহীন নির্যাতন-নিপীড়ন—সবকিছুর ভেতর দিয়ে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে এসেছে।

তবে বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শুধু ক্ষমতায় ফেরা নয়, বরং ক্ষমতা ব্যবহারের ধরন। কী ধরনের শাসন ব্যবস্থা তারা চালু করতে চায় দেশের মানুষের জন্য, এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। দীর্ঘদিন যে গণতন্ত্রের সংকটের কথা তারা বলে এসেছে, সেই গণতন্ত্রকে এখন বাস্তবে শক্তিশালী করে তোলার দায়িত্ব তাদেরই। তাদের প্রতিই আস্থা রেখেছে দেশের মানুষ। বিশেষ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা দেশ। এখন দেখার বিষয় তিনি গণমানুষের অপার আকাঙ্ক্ষার কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারেন।

এবারের নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন ধরনের বিরোধী রাজনীতির উত্থান। সংসদে শক্ত অবস্থান নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অতীতে শেখ হাসিনার আমলে দলটির প্রথম সারির নেতাদের অনেকেই বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। নেতাকর্মীদেকে সহ্য করতে হয়েছে বহু নির্যাতন-নিপীড়ন। সেই সব নিপীড়নের দিন পেরিয়ে তারা এখন প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জামায়াতের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েছে তারা। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নবীন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিগর্ভ থেকে জন্মনেওয়া তরুণদের দল এনসিপি। এনসিপির এ উত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা বহন করছে।

এনসিপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং সাম্প্রতিক তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের একটি বড় অংশ রাজনীতির প্রতি অনীহা কিংবা হতাশায় ভুগছিল। কিন্তু জুলাইয়ের আন্দোলন তরুণদের সেই মনস্তত্ত্ব বদলে দিয়েছে একেবারে। তরুণরা এখন রাজপথে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করতে শিখেছে রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেই রাজনীতি তাদের জীবন থেকে দূরে থাকে না। আর রাজনীতি বিমুখতা নয়, বরং তরুণরা এখন বুঝতে শিখেছে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অংশগ্রহণ করাই তাদের দায়িত্ব।

এই প্রেক্ষাপটে এনসিপির উত্থান দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংকেত। সংসদে তাদের উপস্থিতি হয়তো সংখ্যার দিক থেকে বড় নয়, কিন্তু প্রতীকী দিক থেকে তা অনেক বড়। কারা ৬ জনই ৬০ জনের সমান। তারা একদিকে তরুণদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে চায়, অন্যদিকে নতুন ধরনের এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির দাবি জানায়—যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নীতির প্রশ্ন হবে মূখ্য। যেখানের রাষ্ট্রের প্রতিটি অর্গান হবে প্রশ্নসাপেক্ষ। সবাইকে প্রশ্ন করার সংস্কৃতি তারা নিশ্চিত করতে চায়। যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য যা অত্যন্ত জরুরি।

এনসিপির রাজনৈতিক জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী সংসদে বিরোধী শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলটির উপস্থিতি সবসময়ই বিতর্ক ও আলোচনার বিষয়। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের অবস্থান দেশের বড় একটি অংশের কাছে এখনো বিতর্কিত। তবে এবারের ত্রয়োদশ সংসদে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে একটি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে তাদের ভূমিকা নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে হয়তো।

এইভাবে ত্রয়োদশ সংসদে এবার আমরা এক ধরনের বহুমাত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতা দেখতে পাচ্ছি। ক্ষমতায় জাতীয়তাদী দল বিএনপি, শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াত এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী দল এনসিপি। এই তিনটি প্রবণতা মিলেই এবারের সংসদের রাজনৈতিক চরিত্র নির্ধারিত হবে।

এবারের সংসদের প্রথম অধিবেশন কেবল রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান নির্ধারণের বিষয় নয়। এটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির একটি পরীক্ষাও। বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, নির্বাচনের পরে সংসদ কার্যকর না হলে গণতন্ত্র দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। বিরোধী দলের অনুপস্থিতি, সংসদ বর্জন কিংবা অতিরিক্ত সংঘাত, এসব কারণে অতীতে সংসদের মর্যাদা বহুবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংসদ কার্যত চূড়ান্তভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছিল বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে।

নতুন সংসদের সামনে তাই এবার সংসদকে আবারও গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ আছে। যেখানে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, নীতিনির্ধারণী বিতর্ক হবে, সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় সংকট নিয়ে হবে গঠনমূলক আলোচনা, এই প্রত্যাশাই এখন মানুষের।

বাংলাদেশের মানুষ ইতোমধ্যে অনেক রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখেছে। তারা এখন স্থিতিশীলতা চায়, কিন্তু সেই স্থিতিশীলতা যেন গণতন্ত্রের বিনিময়ে না আসে। তারা উন্নয়ন চায়, কিন্তু সেই উন্নয়ন যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। কিছুতেই নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার আর হারাতে চায় না মানুষ। সকলের চোখেমুখে পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। দেখার বিষয়, মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষার কতটুকু মূল্যায়ন করে ত্রয়োদশ সংসদ।

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ঘটনা নয়। এটি এমন এক সময়ের সূচনা, যেখানে রাষ্ট্র ও রাজনীতির সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের রাজপথে যে স্বপ্ন উচ্চারিত হয়েছিল মানুষের মুখে মুখে, যে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের স্বপ্ন ছিল মানুষের—সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রথম পরীক্ষাগার হতে হবে এবার সংসদকে। মানুষের আশা-আকাঙ্খা ও স্বাধীনতার শেষ আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে সত্যিকার অর্থে।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র বহুবার ভেঙে পড়েছে, বহুবার ধূলিস্মাৎ হয়েছে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। যদিও যখনই সহ্যসীমা অতিক্রম করেছে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আবারও। কী নব্বই, কী চব্বিশ। ইতিহাস বলে, এ দেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের পক্ষেই দাঁড়িয়েছে সব সময়। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন সেই দীর্ঘ ইতিহাসের পরিক্রমায় যুক্ত হওয়া আরেকটি অধ্যায়, যেখানে নতুন বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক যাত্রা আবারও শুরু করতে চায় নতুনভাবে, নতুন করে, নতুনদের নিয়ে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক এ নতুন যাত্রা সফল হোক।

লেখক: কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক
অর্থনীতি বিভাগ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

১৩২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন