কলাপাড়ায় খাস জমি দখল নিয়ে হামলা, নারীর দুই হাত ভাঙার অভিযোগ
বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ, ২০২৬ ৬:৪৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক নারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মোসাঃ নার্গিস বেগম (৩৫) নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় তাকে মারধর করে তার দুই হাত ভেঙে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর ধরে নার্গিস বেগম তার পরিবার নিয়ে ওয়াপদা সংলগ্ন একটি খাস জমিতে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপি ঘনিষ্ঠ ইউপি সদস্য ও যুবদল নেতা সোহেল হালাদার এবং যুবদলের প্রচার সম্পাদক আল-আমিন ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে নার্গিসের পরিবারকে বসতভিটা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের বিভিন্নভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বসতভিটা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে মঙ্গলবার দুপুরে সোহেল হালাদার ও আল-আমিনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় সোহেল মেম্বারের ছেলে ছাত্রদল নেতা জিসান হাওলাদার, নাইম মৃধা, রুবেল খন্দকার, ফেরদাউস হাওলাদার, একলাস ঘরামিসহ আরও কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে অতর্কিতভাবে এলোপাতাড়ি মারধর করলে নার্গিস বেগম (৩৫), সাজেদা বেগম (৫০) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা (১১) আহত হন। এ সময় হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের দুটি টাচ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গুরুতর আহত নার্গিস বেগমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। জানা গেছে, হামলার সময় তার দুই হাত ভেঙে যায়। অপর আহতরা বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত নার্গিস বেগম জানান, তিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন এবং ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। কয়েকদিন ধরে সোহেল মেম্বার তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাপ দিচ্ছিলেন। তার অন্য কোনো বসতভিটা না থাকায় তিনি জায়গা ছাড়তে রাজি হননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেল মেম্বারের ছেলে ও তার সহযোগীরা বাড়িতে এসে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও যুবদল নেতা সোহেল হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার নেতৃত্বে কেউ সেখানে যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি। মারামারির ঘটনা শুনেছেন, তবে কারা জড়িত তা তিনি জানেন না বলে জানান।
মহিপুর থানা যুবদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মোল্লা বলেন, বিষয়টি তিনি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহাব্বত খান বলেন, ঘটনাটি তার জানা আছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২২ বার পড়া হয়েছে