সর্বশেষ

জাতীয়আবু সাঈদ হত্যা মামলা : ৯ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে রায়
এবারের ঈদে টানা ৭ দিনের ছুটি : মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে আজ ৩৪ ফ্লাইট বাতিল
সারাদেশজামালপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার
পিরোজপুরে দুধে ডিটারজেন্ট ও জিলাপিতে হাইড্রোজেন: দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
রংপুরে নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ
খেলাসাকিব আল হাসানের মাঠে ফেরার সম্ভাবনা উজ্জ্বল, পদক্ষেপ নিচ্ছে বিসিবি
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকা না নিউজিল্যান্ড, ইডেনে আজ হাসবে কারা
সারাদেশ

রংপুরে যুবদল নেতা গালিবের সংবাদ সম্মেলন

লিয়াকত আলী, রংপুর
লিয়াকত আলী, রংপুর

বৃহস্পতিবার , ৫ মার্চ, ২০২৬ ১১:৪৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রংপুরে ক্যাবল ওয়ান প্রতিষ্ঠানের মালিক ও জেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়া জনতার উপর অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থ প্রদান এবং নিজের অপকর্ম ঢাকতে যুবদলের নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগ করেছেন রংপুর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় নিজের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পুরো ঘটনার যথাযথ তদন্ত দাবি করেন।

জেলা যুবদল নেতা গালিব বলেন, ১ মার্চ তিনি ক্যাল ওয়ান কার্যালয়ে যাননি এবং ভাইরাল হওয়া সিসি টিভি ফুটেজে তার কোন ভিডিওও নেই। তবুও তাকে প্রধান আসামী বানিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০০৯ সাল থেকে তিনি কামাল কাছনা ও আশেপাশের এলাকায় সিগনাল অপারেটরসহ ডিশ লাইনের ব্যবসা করে আসছিলেন। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার ব্যবসা দখল নিতে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত গন্ডা ও সন্ত্রাসী বাহিনী তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।

এর ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে রংপুর মহানগর যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক হারুন ওরফে কানা হারুন এবং তার ভাই, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সুমন ওরফে রেডিও সুমন, ডিবি পুলিশের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করিয়ে তিনটি মামলা দায়ের করেন। এরপর হারুন ওরফে কানা হারুন তার কামাল কাছনা এলাকার ডিশ ব্যবসা দখল করেন। এতে গালিব চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন এবং বিপুল বিনিয়োগ হুমকির মধ্যে পড়ে। একের পর এক মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগের এই গ্রুপ তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকে।

গালিব বলেন, জুলাই আন্দোলনে তিনি বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টরা দেশ থেকে পালিয়ে যায়। এরপর তার বৈধ ডিশ লাইনের অবৈধ দখল মুক্ত করতে তিনি একাধিকবার ক্যাবল ওয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহানগর যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তিনি ব্যবসা বুঝিয়ে না দিয়ে ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তিনি মিজানুর রহমানকে বারবার বিষয়টি সমাধান করতে বললেও, উল্টো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রেডিও সুমনের স্ত্রী, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সাবেক কাউন্সিলর রিপার মেয়েকে দিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে তার বিরুদ্ধে ডিশ লাইন কেটে দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ আনা হয় এবং তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করা হয়।

এরপর ১ মার্চ রংপুর নগরীর প্রেসক্লাবের সামনে ক্যাবল ওয়ান অফিসের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়। গালিব জানান, ওই দিন তিনি কামাল কাছনার বাসায় ইফতারের পর ভিডিওটি দেখতে পান। তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং ঘটনার কোনও নলেজও ছিল না। ভাইরাল ভিডিও থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ওই ঘটনার সাথে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয় এবং তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক জীবনের মানহানি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ক্যাবল ওয়ান অফিসে সংঘটিত ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একজন শান্তিপ্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে এই ঘটনায় তার রাজনৈতিক দলের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং সে কারণে তিনি দলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

গালিব বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে তিনি ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা আওয়ামী লীগের দ্বারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। রাজপথে রক্ত ঝরেছে, বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি, দিনের পর কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাদের রক্ত ও ঘামে গড়া প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দখল করে তাদের নিঃস্ব করেছে। ২ শে জুলাই বিপ্লবের পর তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

জুলাই আন্দোলনের সময় ক্যাবল ওয়ানের মালিক মিজান যুবলীগের রংপুর জেলার যুগ্ন আহ্বায়ক হিসেবে তার প্রতিষ্ঠান থেকে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করেন। আন্দোলনে যুবলীগ নেতা হারুন প্রকাশ্যই গুলি বর্ষণ করেন আন্দোলকারী ছাত্র জনতার উপর।

গালিব অভিযোগ করেন, তিনি যখন তার ডিশ ব্যবসা পুনরায় শুরু করতে গেলে, যুবলীগ নেতা মিজান, হারুন এবং তার ভাই সুমন তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে গ্রেফতার করান। তিনি পুরো ঘটনার তদন্ত ও ন্যায্য বিচার দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে কামাল কাছনা এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

১০৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন