রাষ্ট্রের প্রত্যেক জনগণকে নিশ্চিন্ত করাই নতুন সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নিম্নবিত্ত,,দরিদ্র, হতদরিদ্রদের ব্যবস্থা---যেমন আগে, তারও আগে যারা সরকারে, বিরোধী দলে; তাদের সুবিধাও সবার ওপরে ---এই ব্যবস্থা ও বন্দোবস্ত ৫৪বছর ধরে চলে আসছে।
যে দেশে লাখ-লাখ লোক না খেয়ে ঘুমার রোজ, রাস্তায় ঘুমায় হাজার হাজার। সেখানে রাষ্ট্র ব্যবস্থাপক, জনপ্রতিনিধিদের আকার, আাহার-বিহারে যে বিপুল ব্যয়; তা আমাদের আশাতীতরকম আহত করে এসেছে এতোকাল। এখন,যদিও নতুন সরকার এ ব্যাপারে সজাগ, বিশেষ করে দুর্নীতি ও দুঃশাসন নিয়ে। এটি আশার আলো হয়ে মানুষের মধ্যে পড়েছে। দেখা যাক কী হয় শেষমেশ। ভালোই হওয়া দরকার।
রাষ্ট্রের সৃজনশীল মানুষের সুবিধা,অসুবিধা নিয়ে কেউ-ই কথা কয় না! অথচ অতন্দ্র প্রহরীরা যেমন দেশ রক্ষায় নিয়োজিত, তেমনি শব্দসৈনিকরাও দেশ ও মানুষের জন্য বরাবর কামান হয়ে কথা কয়। ৫২,৬৮, ৭১, ৯০, ২৪' হলো তার বড় উদাহরণ। ১৭৫৭'র পর আজ অবধি যেখানে সংকট, সেখানে শব্দের হাতিয়ার এবং কবচ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে তারা। বিনিময় বা অবদান বেচা নয়, কিংবা ভাতাভোগী, এমনকি কার্ডের মোহেও লালায়য়িত নয় ওয়ারিওয়ারসরা।
যোগ্যতা, মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র কাঠামোর সার্বিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সকল শ্রেণির মানুষের সুবিধা এবং অসুবিধা নিয়ে কাজ করার নামই হলো উন্নত, উদার, সৎ--- রাষ্ট্রব্যবস্থাপনা।
নিম্ন, অনিম্ন সকল জনগণই রাষ্ট্রমালিক, সুতরাং; দয়া নয়, দায়িত্ব নিয়ে নাগরিকদের সেবা পৌঁছে দেয়া সরকারের রাষ্ট্রিক কর্তব্য এবং বিরোধীদলের এসকল ব্যাপারে নীতিনৈতিকতার সাথে সহযোগিতা করে জনগণকে নিরাপদ এবং নিশ্চিন্ত করা---এর নামই হলো রাজনীতি।
এমপি, মন্ত্রীপরিষদবর্গদের লোকবল, প্রটোকল, সুযোগসুবিধা যেমন খুবই আরামদায়ক এবং স্বাচ্ছন্দ্যময়; তাই, তাদের নৈতিক কাজ, কোন কোন জনগণ রাস্তায় ঘুমায়, তা তলিয়ে দেখা ও সমাধান করা। এক ঢাকা শহরের সড়কে ৫০ হাজারের বেশি লোক খোলা আকাশের নিচে ক্ষুধা নিয়ে ঘুমোয়।
আগে দেখা দরকার, দেশে দৈনিক কত লোক না খেয়ে ঘুমায়। তাদের খাওয়ানোর বন্দোবস্ত করা। কারা প্রকৃত গৃহহীন? তাদের আশ্রিত করার চিন্তা করা।
একটা গরীব দেশে জনপ্রতিনিধিদের ভোগ-উপভোগের মাত্রা বরাবর বেশি। ভোগফল ভাল নয়, ভোগ কমিয়ে উপভোগ করলে দেশ ও দশের উপকার হয়।
আশা করি নতুন সরকার মিতব্যয়ী এবং মানুষমুখীন হবে। মানুষের মঙ্গলে ব্রত থাকবেন। প্রত্যেক জনগণকে নিয়ে ভাববেন এবং গবেষণা করে ব্যবস্থা নিবেন; তবেই ইনসাফ বলি আর ন্যায়পরায়ণতা বলি সেটা নিশ্চিত হবে।
এসকল বাস্তবায়ন করা যাবে, যদি দেশ থেকে আমূল দুর্নীতি দমন করা যায়।
দুর্নীতিবাজদের সকল সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে সংরক্ষণ করুন। এবং, ঘোষনা দেন, দুর্নীতিবাজদের পরিবারের কেউ ৫০ বছরের মধ্যে সরকারি চাকুরীর আবেদনই করতে পারবে না। এমন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদের তালিকা তাদের স্ব স্ব এলাকায় টাঙিয়ে দিন। দেখবেন দুর্নীতি বন্ধ। সব কিছু যোগ্যতা, সততার অগ্রাধিকার দিন; আনুগত্যকামী, সবসময় কানের কাছে ফুসুরফাসুরকারীদের দূরে রাখুন। দেখবেন, আমাদের বাংলাদেশও সিঙ্গাপুর হয়ে গেছে পনের বছরেই।
লেখক : কবি ও নাট্যকার।
১৮২ বার পড়া হয়েছে