জয়পুরহাটে প্রথমবার বিটরুট চাষে কৃষকেরা লাখ টাকার লাভে খুশি
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আলু চাষে বারবার লোকসানের পর হতাশা কাটিয়ে এবার নতুন সবজি ‘বিটরুট’ জয়পুরহাটের কৃষকদের জন্য নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
ক্ষেতলাল উপজেলার উত্তর হাটশহর গ্রামের কর্ণপাড়া অঞ্চলের কয়েকজন প্রান্তিক কৃষক প্রথমবার বিটরুট চাষ করে বিঘা প্রতি লাখ টাকারও বেশি লাভ করেছেন। মোট প্রায় আট বিঘা জমিতে তারা এই নতুন ফসলের চাষে সাফল্য অর্জন করেছেন।
প্রদর্শনী ও সফল চাষ প্রণালীর খবর ছড়িয়ে পড়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা এই নতুন সবজি চাষ দেখতে ভিড় করছেন। কৃষকরা প্রতি বিঘা মাত্র ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে চাষ খরচ করছেন এবং ৯০ থেকে একশ মণ পর্যন্ত ফলন পাচ্ছেন। বিক্রির মাধ্যমে এটি কৃষকদের ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আয় এনে দিচ্ছে।
ক্ষেতলাল উপজেলার উত্তর হাটশহরের কর্ণপাড়া মাঠে এবার বিটরুটের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। গত বছর বেসরকারি সংস্থা ‘এসো’র কৃষি বিভাগের তত্বাবধানে প্রদর্শনী ক্ষেত লাভজনক হওয়ায় কয়েকজন কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়ে এবার প্রায় ৮ বিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো বিটরুট চাষ করেছেন। রোপণের ৮০ দিন পর থেকে তারা পাইকারি বাজারে প্রতি মণ ১,২০০ থেকে ১,৪০০ টাকায় বীটরুট বিক্রি করছেন। এর ফলে এক বিঘা জমিতে খরচ বাদে কৃষকরা লাখ টাকারও বেশি আয় করছেন।
ক্ষেতলাল উপজেলার উত্তর হাটশহর গ্রামের অনীল চন্দ্র বলেন, “গত বছর বেসরকারি সংস্থা ‘এসো’র সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোরশেদুল ইসলাম ৬ শতক জমিতে প্রথম প্রদর্শনী ক্ষেত তৈরি করেছিলেন। খরচ হয়েছিল মাত্র ১,২০০ টাকা। ৮০ দিন পর বিক্রি করে ১৮,০০০ টাকা আয় হয়েছিল। এই লাভ দেখে এবার আমি এক বিঘা জমিতে বিটরুট চাষ করেছি। খরচ হয়েছে মাত্র ১০–১২ হাজার টাকা। ইতোমধ্যেই ৬০ মণ বিক্রি করেছি। জমিতে আরও ৪০–৫০ মণ আছে, যা বিক্রি করলে লাখ টাকারও বেশি লাভের আশা করছি।”
অনীল চন্দ্র ছাড়াও একই গ্রামের আচান, সরেন, কৃষ্ণ ও অর্জুন এবং পাশের ভুতপাড়া গ্রামের খগেন ও বাঘোপাড়ার তোজাম্মেল এক বিঘা করে বিটরুট চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। রোপণের ৮০ দিন পর তারা প্রতিদিন বগুড়ার মহাস্থান হাটে মণ ভিত্তিক বিক্রি করছেন।
আচান চন্দ্র বলেন, “গত বছর আলুতে লোকসান হওয়ায় আলু চাষ বন্ধ করেছি। এবার বিটরুট চাষ করে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার লাভ হয়েছে। এটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা আমার মাঠে চাষ দেখছেন। আশা করি ভবিষ্যতে এই চাষ আরও বাড়বে।”
বেসরকারি সংস্থা ‘এসো’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ সলিল চৌধুরী জানান, “গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে কৃষকদের লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে আমাদের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামীতে কৃষকরা এর সুফল ভোগ করবেন।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ.কে.এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, “নতুন সবজি বিটরুট চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষকদের কারিগরিসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”
১২৯ বার পড়া হয়েছে