হিলিতে স্ত্রীর নাক কাটল স্বামী, গণপিটুনি শেষে পুলিশে সোপর্দ
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আগের স্ত্রী ও সন্তানের তথ্য গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ের পর সত্য জানাজানি হয়। এরপর স্ত্রী তালাক দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে শাহিনুর ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।
ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে রিভামনি (২০) নামের ওই গৃহবধূর নাক প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর জখম সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার হরিহরপুর গ্রামে এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শাহিনুরকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরনজী গ্রামের শাহিনুর ইসলামের সঙ্গে হরিহরপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের মেয়ে রিভামনির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আগের স্ত্রী ও দুই সন্তানের কথা সম্পূর্ণ গোপন রেখে গত বছরের মার্চ মাসে রিভামনিকে বিয়ে করে শাহিনুর। বিয়ের পর থেকে সে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করে আসছিল। সম্প্রতি তার আগের সংসারের কথা জানাজানি হলে গত বুধবার (তারিখ) রিভামনি তাকে তালাক দেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর নানা হাবিবুর রহমান জানান, "প্রতারক শাহিনুর আমার নাতনিকে ফুসলিয়ে গোপনে বিয়ে করেছিল। আমরা পরে জানতে পারি এর আগেও সে তিনটি বিয়ে করেছে এবং বর্তমানে তার এক স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। সত্য জানার পর গত বুধবার আমার নাতনি তাকে তালাক দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় সে বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে যায়। শনিবার সকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ধারালো চাকু নিয়ে সে নাতনিকে এলোপাতাড়ি কোপায়।" তিনি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আহত গৃহবধূর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. হুমায়ন কবির বলেন, "শনিবার দুপুর ১টার দিকে রোগীকে গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মক জখম হয়েছে এবং নাক কেটে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে ঝুলে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।"
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, "স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত স্বামী শাহিনুরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত ধারালো চাকুটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।"
১৮৫ বার পড়া হয়েছে