পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচন ও নিরাপত্তার দাবিতে বান্দরবানে সংবাদ সম্মেলন
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বান্দরবানে এক সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া চেয়ারম্যান পদে বাঙালিদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি, ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রবর্তন এবং পূর্বে প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের কথাও তুলে ধরা হয়।
বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের নিচ তলায় একটি বেসরকারি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপি’র নেতারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং ৩৭ বছর ধরে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ অনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে জবাবদিহির অভাব তৈরি হয়েছে এবং দুর্নীতি ও অনিয়ম বেড়েছে বলে তাদের দাবি।
সংগঠনের নেতারা বলেন, আইন অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে এবং সব সম্প্রদায়ের জন্য সমান অংশগ্রহণের সুযোগ রাখতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে পাহাড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানানো হয়।
পিসিএনপি ২৪৬টি প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপন, দুর্গম এলাকায় সেনা মোতায়েন জোরদার এবং পুলিশের পরিবর্তে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিও উত্থাপন করেছে। পাশাপাশি ১০৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক দ্রুত নির্মাণের আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটি পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ বাতিল এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পুনর্বিবেচনার কথাও উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, দেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন বহাল রাখা উচিত নয় এবং পার্বত্য অঞ্চলে সংবিধানের আলোকে শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন পিসিএনপি’র চেয়ারম্যান কাজী মুজিবুর রহমান, বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মওলানা আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য নাছির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শাহ জালাল এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
এ সময় তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, সরকার পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
সংগঠনটি আরও দাবি জানিয়েছে, ভূমি কমিশন আইন সংশোধন করে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ করা, বাজারফান্ড এলাকায় হাউজলোন পুনরায় চালু করা এবং শিক্ষা ও চাকরিতে বৈষম্য দূর করতে হবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে