কীর্তনের মেলা থেকে তুলে নিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলাতে কীর্তনের মেলা থেকে এক গৃহবধূকে (২৫) তুলে নিয়ে রাতভর গণধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাকিব নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শশীগঞ্জ গ্রামের দাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে প্রথমে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের দড়িচাদপুর শায়েস্তাকান্দি গ্রামের ওই নারী বিকেলে আড়ালিয়া গ্রামে অনীল বাবাজীর তিরোধান উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত কীর্তনে অংশ নেন। রাত ৯টার দিকে পরিচিত অটোরিকশাচালক রাকিবসহ শাকিল ও রাসেল নামে তিনজন তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অটোরিকশায় তুলে নেয় বলে অভিযোগ।
পরবর্তীতে তাকে শশীগঞ্জ গ্রামের দাসপাড়া এলাকার একটি সুপারি বাগানে নিয়ে মুখ চেপে ধরে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোররাতে স্থানীয়রা ওই নারীকে বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগীর মা জানান, অভিযুক্ত তিন যুবক তার মেয়েকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইকবাল হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে খবর পেয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেন এবং আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে রাকিবকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
২০১ বার পড়া হয়েছে