সর্বশেষ

সারাদেশ

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে উচ্ছেদ অভিযানে উত্তেজনা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম স্থগিত

মহিউদ্দিন সোহেল, শেরপুর
মহিউদ্দিন সোহেল, শেরপুর

মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫:১৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরে সড়ক দখলমুক্ত করতে গিয়ে উত্তেজনার মুখে পড়েছে উপজেলা প্রশাসন। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কয়েকজন নেতার বাধার মুখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান স্থগিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পৌর শহরের মধ্যবাজার ও কালিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রমজান উপলক্ষে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রধান সড়কের দুই পাশ থেকে অবৈধ দখল সরাতে উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। এর আগে শনিবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান এবং নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান ব্যবসায়ীদের মালামাল সরিয়ে নিতে অনুরোধ করে প্রচারণা চালান।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু হলে সড়কের ওপর রাখা বিভিন্ন মালামাল জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় কয়েকজন ব্যবসায়ী আপত্তি জানান এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাবেক পৌর মেয়র ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতা আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে অভিযান বন্ধের আহ্বান জানান। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে বাধা দেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযান স্থগিত করে সরে যান।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় প্রশাসনের বাইরের কিছু স্বেচ্ছাসেবী দোকানে প্রবেশ করে মালামাল জব্দ করেছেন, যা তারা বেআইনি বলে দাবি করেন। নালিতাবাড়ী ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার এখতিয়ার থাকলেও বহিরাগতদের মাধ্যমে দোকানে প্রবেশ করে মালামাল নেওয়া ঠিক হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন—এমন খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

নালিতাবাড়ী থানার ওসি আশরাফুজ্জামান জানান, আগেই ব্যবসায়ীদের সড়কে মালামাল না রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান বলেন, আদালতের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনের সময় কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে, যা দুঃখজনক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিনও ঘটনাটিকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

রমজানকে সামনে রেখে সড়ক দখলমুক্ত অভিযানে এমন ঘটনার পর পৌর শহরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকে নজর স্থানীয়দের।

৩১১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন