বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তে এবারও হয়নি মাতৃভাষা দিবসের মিলনমেলা
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৯:২৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি দুই বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হত।
ভোরের আলো ফুটতেই দুই দেশের হাজারো মানুষ এ অঞ্চলে ছুটে আসতেন ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। তবে ২০২৬ সালে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আবারও অনুষ্ঠিত হয়নি।
প্রতিবছর নো-ম্যান্স ল্যান্ডে গড়ে তোলা হতো অস্থায়ী শহীদ মিনার। মানুষ বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করতেন, মুখে তুলির আঁচড়ে লেখা থাকত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’, হাতে ফুলের মালা হাতে নিয়ে শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতেন। ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নিত এই মিলনমেলায়। সীমান্তরেখা যেন মুহূর্তের জন্য হার মানতো ভাষার টানে।
এই মিলনমেলায় অংশগ্রহণকারীরা কাঁটাতারের বেড়া উপেক্ষা করে আলিঙ্গন করতেন এবং ভৌগোলিক বিভাজন ও রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে যেতেন। সৃষ্টি হতো এক অপার সম্প্রীতির দৃশ্য, যেখানে শুধুই ভাষার বন্ধন ছিল।
তবে চলতি বছরও নো-ম্যান্স ল্যান্ডে মিলনমেলা আয়োজন সম্ভব হয়নি। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এই মেলার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শার্শা উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান লিটন বলেন, “রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়েছে। ফলে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে একুশের মিলনমেলা আয়োজন করা যায়নি। তবে জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়ে বিএনপি সরকারকে নির্বাচিত করেছে। আশা করছি, ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।”
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল স্থলবন্দরে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হলেও ভারতীয় পক্ষ নিরাপত্তাজনিত ছাড়পত্র না পাওয়ায় বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি।
ভাষার আবেগে গড়ে ওঠা দুই বাংলার মানুষের এই মিলনমেলা না হওয়ায় সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আক্ষেপ ও হতাশা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাষা ও সংস্কৃতির টানে গড়ে ওঠা এই বন্ধন ভবিষ্যতে আবারও ফিরে আসবে।
১১৪ বার পড়া হয়েছে