বন কর্মকর্তার সহায়তায় সুন্দরবনে অবৈধ মাছ শিকার, আটক ২৫
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:১৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুন্দরবনের নদ-নদীতে অবৈধভাবে মাছ ও মাছের পোনা শিকার এবং মাসোহারা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
দুবলা ফরেস্ট স্টেশনের সহকারী কর্মকর্তা মোস্তাকিন বিল্লাহর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অভয়ারণ্য এলাকায় অবাধে চলছে এই লুণ্ঠন।
সম্প্রতি বন বিভাগের পৃথক দুটি অভিযানে ৩টি মাছ বোঝাই ট্রলারসহ ২৫ জেলেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় জব্দ করা হয়েছে ৪০০ কেজি পারশে মাছের পোনা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বগী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্টার দিলীপ মজুমদারের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে বলেশ্বর নদীতে নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা একটি সন্দেহভাজন ট্রলার থামাতে বললে চালক দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। ধাওয়া করে ট্রলারটি আটক করা হয় এবং তল্লাশি চালিয়ে ১৫০ কেজি পারশে মাছের পোনা জব্দ করা হয়। ট্রলারে থাকা ১০ জেলেকে আটক করে বগী ফরেস্ট স্টেশনের বনরক্ষীরা।
আটক জেলেদের মধ্যে রয়েছেন: ইমরান গাজী, গনি শেখ, সাহাবুদ্দিন শেখ, এনামুল শেখ, হাবিবুর শেখ, জুবায়ের মিস্ত্রী, সিরাজুল শেখ, আমিরুল শেখ, রহমান শেখ ও মহাসিন মিস্ত্রী। তাদের বাড়ি খুলনার দাকোপ ও পাইকগাছা এলাকায়। বনরক্ষীরা জানান, জেলেরা রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ধরা পোনা নিয়ে পাইকগাছার দিকে যাচ্ছিল।
একই দিনে (সোমবার) বিকেলে সুন্দরবনের কোকিলমোনি এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বনরক্ষীরা আরও ১৫ জেলেকে আটক করে। এ সময় ২৫০ কেজি পারশে মাছের পোনা এবং তাদের ব্যবহৃত দুটি ট্রলার জব্দ করা হয়।
স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করেছেন, সহকারী কর্মকর্তা মোস্তাকিন বিল্লাহ এবং দুবলা ফরেস্ট স্টেশনের কয়েক বনরক্ষকের মদদে বনাঞ্চলে অবৈধ মৎস্য শিকার চালানো হচ্ছে। আটক হওয়া তিনটি ট্রলারও মোস্তাকিন বিল্লাহর এলাকার। জেলেদের দাবি, রাতের অন্ধকারে মোস্তাকিন বিল্লাহর অনুমতি নিয়ে তারা মাছ শিকার করে এবং জেলেদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা নেয়।
তবে সহকারী কর্মকর্তা মোস্তাকিন বিল্লাহ জানান, কোকিলমোনির নিষিদ্ধ খালে অবৈধভাবে মাছ ধরার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না এবং স্টেশনের পাশে ট্রলার রাখার ব্যাপারেও তাঁর কোন জ্ঞান নেই।
জেলে পল্লী দুবলা স্টেশনের ফরেস্ট রেঞ্জার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মিলটন রায় জানান, ৩টি ট্রলারসহ ২৫ জেলেকে আটক করার বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং সহকারী কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা থাকলে তা তদন্ত করা হবে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের নদ-নদীতে কোনো ধরনের অবৈধ মাছ শিকার বরদাশত করা হবে না। গোপন সংবাদ পেয়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে ট্রলার ও জেলেদের আটক করা হয়েছে। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং জব্দকৃত পোনা নদীতে অবমুক্ত করা হচ্ছে। যদি সহকারী কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা সত্য প্রমাণিত হয়, তবে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, পোনা আহরণকারী সাধারণ জেলেদের আটক করা হলেও সিন্ডিকেটের গডফাদার এবং বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ সহায়কদের চিহ্নিত না করলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র রক্ষা করা অসম্ভব হবে।
১৫৯ বার পড়া হয়েছে