ময়মনসিংহের ৯ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের তৎপরতা, চাপে ধানের শীষ
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫:০১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৯টিতেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এতে দলীয় ভোট বিভক্ত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। পরিস্থিতির সুযোগ নিতে মাঠে অর্থ ছড়িয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা—এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির একাধিক নেতা ও সাধারণ ভোটাররা।
গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন আসনে সরেজমিন ঘুরে প্রার্থী, নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সালমান ওমর রুবেল। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এমপি আফজাল এইচ খানের অনুসারীদের একটি অংশ ধানের শীষের বিরুদ্ধে মাঠে কাজ করছে। এতে দলীয় প্রার্থী প্রতিকূলতার মুখে পড়লেও জয় নিয়ে আশাবাদী বিএনপি, যদিও ভোটাররা এটিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলা উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বহিষ্কৃত সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার, যিনি একটি হত্যা মামলায় আসামি হয়ে কারাবন্দি ছিলেন। জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি সক্রিয় প্রচারণায় নামায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মুফীত মুহাম্মদুল্লাহ আলোচনায় এলেও স্থানীয়দের মতে এখনও এগিয়ে আছেন ধানের শীষের প্রার্থী।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী ও বহিষ্কৃত নেতা আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরনের সঙ্গে দলীয় প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইনের লড়াই জমে উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়তায় ধানের শীষ কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান ভোটাররা। এখানে বই প্রতীকের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আবু তাহের খানও আলোচনায় আছেন।
চারমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস রয়েছে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে। বিএনপির প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুকের বিপরীতে বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন আখতার সুলতানা। একই সঙ্গে জামায়াত ও তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোটের হিসাব জটিল হয়ে উঠেছে।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ আনোয়ার সাদত এবং জামায়াতের প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান সোহেল। নীরব ভোটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের চমকের আশঙ্কা করছেন ভোট বিশ্লেষকরা।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন। তার বিপরীতে সাবেক এমপি শাহ নূরুল কবীর শাহীন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও মাঠে তিনি তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে আছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।
চাচি-ভাতিজার লড়াইয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসন। ধানের শীষের প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরীর বিপরীতে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিনা খান চৌধুরী। এখানে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী থাকায় ভোটের সমীকরণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সহিংসতায় উত্তাপ ছড়িয়েছে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে। বিএনপির প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চুর বিপরীতে বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে রয়েছেন এবি সিদ্দিকুর রহমান। তার বিরুদ্ধে অর্থ ও বাহুবল ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন।
শিল্পাঞ্চলখ্যাত ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুর সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ মুর্শেদ আলমের বিদ্রোহী প্রার্থিতায় পরিস্থিতি টালমাটাল। অর্থ বিতরণের অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থককে জরিমানাও করেছে প্রশাসন।
এ বিষয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ-৪ আসনের প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘন করে কিছু দল টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। তবে ধানের শীষ জনগণের আস্থার প্রতীক, এসব কৌশলে বিজয় ঠেকানো যাবে না।”
অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই বিএনপি তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বলেন, “সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।”
১২৭ বার পড়া হয়েছে