সীমান্তে মিয়ানমারের গুলিতে আহত হুজাইফা আর নেই
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৯:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত বাংলাদেশি শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান আর বেঁচে নেই।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার কিছু সময় পর রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির মৃত্যুর খবরে সীমান্তবর্তী এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক। স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি সকালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য সংলগ্ন বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির সময় একটি গুলি এসে হুজাইফার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেদিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানান, অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকির কারণে মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকেরা মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার আগের রাতে সীমান্তের ওপারে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকালে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক মনে হওয়ায় শিশুটি খেলতে বাইরে বের হলে আবারও গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় একটি গুলি এসে সরাসরি তার মাথায় লাগে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল নিক্ষেপ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে। মংডু টাউনশিপসহ আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনীর হামলা জোরদার হওয়ায় সীমান্ত পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।
এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতেও। টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় গোলার শব্দে কেঁপে উঠছে ঘরবাড়ি। ওপার থেকে ছোড়া গুলি এসে পড়ছে বসতঘর, চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে।
হুজাইফার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্ত এলাকার নিরস্ত্র মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে বাংলাদেশ সীমান্তে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
১৬৩ বার পড়া হয়েছে