নবম শ্রেণির ফলাফল বিপর্যয় ঘিরে মানববন্ধনের পর শিক্ষার্থী নিখোঁজের অভিযোগ
মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫:১৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম সৃসানজিত কর্মকার। এ ঘটনায় তার মা কাকন কর্মকার পটুয়াখালী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডি ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সৃসানজিত কর্মকার ২০২৫ সালের নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, মোট ১৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৪ জন সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, নবম শ্রেণির নির্ধারিত পাঠ্যসূচির বাইরে এসএসসি মানের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এক মাস ধরে তারা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সন্তোষজনক কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। বরং অভিভাবকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। দাবি আদায় না হওয়ায় গত ২ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, মানববন্ধন চলাকালে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারমিন আক্তার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে গেলে ভবিষ্যতে কোথাও ভর্তি হতে পারবে না বলে হুমকি দেন। এমনকি গুম ও হত্যার ভয় দেখানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মা কাকন কর্মকার জানান, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ছেলের কক্ষে গিয়ে তাকে দেখতে পাননি। তার ধারণা, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভয়ভীতির কারণে অথবা আন্দোলন বন্ধে চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তার সন্তানসহ অন্য কোনো শিক্ষার্থীকে আটকে রাখা হতে পারে।
এ ঘটনায় সন্তানের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদ উদ্ধারের দাবিতে তিনি থানায় জিডি করেছেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।”
১০৫ বার পড়া হয়েছে