শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যা মামলার আসামিদের জামিনে স্ত্রী'র প্রতিবাদ
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ৪০ জনকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
এ জামিনের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রী মারজিয়া বেগম।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে মারজিয়া বেগম বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি সন্ত্রাসীরা তার স্বামী মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যা করে। স্বামীকে হারিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসী এখনো শোকাহত। এমন পরিস্থিতিতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আসামিদের জামিন পাওয়ার বিষয়টি তাকে হতাশ ও মর্মাহত করেছে।
তিনি বলেন, 'আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। ফ্যাসিস্ট সরকার চলে যাওয়ার পরও কাদের ইশারায় আসামিরা জামিন পেল, তা জানতে চাই।'
এ সময় তিনি এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং রাষ্ট্রের আইনজীবীদের দ্রুত আপিল করে জামিন স্থগিতের দাবি জানান। অন্যথায় প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দুপুরে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫-৬শ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছেন।
তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে মাহমুদুল হক রুবেলের উপস্থিতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাকে মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে ৪০ জনকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন।
গত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চেয়ারে বসা নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে রেজাউল করিমসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
১২৫ বার পড়া হয়েছে