কর্মজীবী নারীদের নিয়ে মন্তব্য লজ্জাজনক ও কলঙ্কজনক: তারেক রহমান
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:০২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
খুলনায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘কলঙ্কজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ওই দল কার্যত দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী—নারীদের ঘরের ভেতরে আটকে রাখার মানসিকতার প্রকাশ ঘটিয়েছে।
সোমবার দুপুরে খুলনা নগরের খালিশপুর এলাকার প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনায় গিয়ে কোনো নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন তিনি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাঠে পৌঁছালে নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা করতালির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান। প্রায় ২৭ মিনিট ধরে তিনি বক্তব্য দেন।
কারও নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, দুই দিন আগে একটি রাজনৈতিক দলের একজন নেতা কর্মসংস্থানে যুক্ত নারীদের নিয়ে এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা প্রকাশ করতেও লজ্জা লাগে। তিনি বলেন, মা–বোনদের উদ্দেশে এমন ভাষা ব্যবহার করা শুধু অশালীন নয়, বরং পুরো জাতির জন্যই কলঙ্কজনক।
নারীদের অবদান প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের লাখ লাখ নারী পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করে জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী সংসার টিকিয়ে রাখতে স্বামীর পাশাপাশি আয়মূলক কাজে যুক্ত হচ্ছেন। অথচ আজ সেই নারীরাই অপমানের শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলা মানুষদের মনে রাখা উচিত—নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হজরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। সুতরাং নারীদের কর্মজীবনকে হেয় করার কোনো অধিকার কারও নেই।
তিনি আরও বলেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাকড হওয়ার অজুহাত দিয়েছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এ ধরনের বক্তব্য এভাবে হ্যাকের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব নয়। নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের প্রকৃত চরিত্রই প্রকাশ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নারীদের ক্ষমতায়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই সফল হতে পারে না। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তাঁরা কারও ওপর নির্ভরশীল না থাকেন।
খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত খুলনা আজ প্রায় মৃত অবস্থায় রয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই অঞ্চলকে আবারও সক্রিয় শিল্পাঞ্চলে রূপান্তর করা হবে এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। কর্মসংস্থান, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করলেই কেবল জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি ও ধানের শীষের এই জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ১৫–১৬ বছরে বিএনপি বহু আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, যেখানে অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এসব দমন-পীড়নের পরও ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দলমত নির্বিশেষে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। এখন সময় এসেছে অধিকার পুনরুদ্ধারের। তাঁর আশা, ১২ তারিখে দেশের মানুষ সেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যা থেকে তারা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বঞ্চিত ছিলেন।
বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম কাজ হবে দেশ পুনর্গঠন—এ কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশ গড়তে হবে। একটি শ্রেণিকে বাদ দিয়ে কখনোই টেকসই রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। গত ১৬ বছরে মানুষ জাতীয় ও স্থানীয় কোনো নির্বাচনেই স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
১১৬ বার পড়া হয়েছে