বান্দরবানে সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটার ৩ লক্ষাধিক
রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:২৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশের মতো পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও শুরু হয়েছে নির্বাচনী আমেজ।
পাহাড়, বন ও নদীবেষ্টিত পর্যটননগরী হিসেবে পরিচিত এই জেলা দীর্ঘদিন ধরে বহুসংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জনপদ হিসেবে খ্যাত। বাঙালিসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ১২টি সম্প্রদায়ের সহাবস্থানে গড়ে ওঠা এ জেলায় এবারের নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।
বান্দরবান পার্বত্য জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৭ জন। নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৪৬৯ জন। জেলার সাতটি উপজেলা, ২টি পৌরসভা ও ৩৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বান্দরবান-৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৮৬টি, যার মধ্যে ৩৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দীন, জাতীয় পার্টি (কাদের) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ।
বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলায় ব্যাপক সাড়া মিলছে। বিএনপি সবসময় এ অঞ্চলের উন্নয়নে আন্তরিক। পাহাড়ি এলাকায় পানি সংকট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থসামাজিক খাতে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করার পাশাপাশি পাহাড়ের সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহার করে আয় বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দলবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দীন বলেন, ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন তারা। ভোটাররা বিকল্প নেতৃত্ব ও বাস্তবসম্মত পরিবর্তনের দিকে নজর দিচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, শেষ পর্যন্ত এ সাড়া ভোটে প্রতিফলিত হবে এবং এটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের সম্ভাবনা তৈরি করবে।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, তরুণ ভোটাররা পরিবর্তন চায়। তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও চাকরির ক্ষেত্রে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানছি এলাকার অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
জাতীয় পার্টি (কাদের) প্রার্থী আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ বলেন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। তিনি নির্বাচিত হলে প্রত্যেক তরুণ নিজেকে তার প্রতিনিধি হিসেবে মনে করবে। বান্দরবানের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিতে আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে সম্প্রীতির এ জনপদে ভোটারদের প্রত্যাশা ও প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিতে জমে উঠেছে বান্দরবানের নির্বাচনী মাঠ।
১২৩ বার পড়া হয়েছে