সম্প্রীতি ও আনন্দের মিলনমেলা : ঢাকায় কুমারখালীবাসীর বর্ণাঢ্য বনভোজন
শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঢাকায় বসবাসরত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারখালী উপজেলা সমিতি, ঢাকার এক বর্ণাঢ্য বনভোজন।
শুক্রবার (৩০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর অদূরে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার মশুরিখোলায় অবস্থিত নীলাচল রিসোর্টে দিনব্যাপী এই আনন্দ আয়োজন সম্পন্ন হয়। ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি ভুলে একত্রিত হয়ে কুমারখালীবাসীরা এদিন মিলিত হন আনন্দ, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে।
দিনব্যাপী আয়োজনজুড়ে ছিল গান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, র্যাফেল ড্রসহ নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান। উৎসবমুখর এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ-সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে বনভোজনটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
আনন্দ আয়োজনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন কুমারখালী উপজেলা সমিতি ঢাকার সভাপতি ম. আ. কাশেম মাসুদ। সভায় বক্তব্য রাখেন সমিতির মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) পুলক রঞ্জন দাস, অর্থ সচিব আমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জাহিদুল কবির আজাদ, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান, সহ-সভাপতি ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সরোয়ার হোসেন, ঢাকা জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সমিতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট পরিমল কুমার বিশ্বাস, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ আর ইকবাল, লেখক মীর মর্তুজা আলী বাবু এবং ড. শাহ আলম চুন্নু।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে কুমারখালী একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অবস্থানে থাকলেও ঢাকায় কুমারখালী উপজেলা সমিতির কার্যক্রম এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। অতীতে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, ইফতার মাহফিল ও বনভোজনের মতো আয়োজনগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা হলেও সাম্প্রতিক নানা সংকটে সংগঠনের কার্যক্রম কিছুটা ধীর গতিতে চলছে।
তাঁরা আরও বলেন, কুমারখালী উপজেলা সমিতি ঢাকাকে এগিয়ে নিতে হলে ঢাকায় অবস্থানরত কুমারখালী উপজেলার সকল মানুষকে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংগঠনকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কার্যক্রমে নতুনত্ব ও আকর্ষণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
আলোচনায় বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, সমিতির আয়োজন খুব বেশি চাকচিক্যময় না হওয়ায় অনেকেই অংশগ্রহণে আগ্রহ হারান এবং কেউ কেউ অন্য উপজেলার বনভোজনে অংশ নেন। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে নিজ উপজেলার সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপহার দেন শিল্পী আলতাফ হোসেন, শফিউদ্দিন কামরান, এনামুল কবির, মুন্সী কামরান আহমেদ এবং আনোয়ারুল ইসলামের কন্যা ইসরাত হোসেন চয়নিকা। তাঁদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হন দর্শক-শ্রোতারা।
বনভোজন সফলভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বনভোজন কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মহব্বত হোসেন। এছাড়া সার্বিক ব্যবস্থাপনা উপকমিটির আহ্বায়ক ছিলেন আশরাফুল আলম সাগর, ক্রীড়া উপকমিটির আহ্বায়ক কাজী সুলতান হোসেন, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রতন এবং সংস্কৃতিক উপকমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জাহিদুল কবির আজাদ।
স্মৃতিময় এই বনভোজন ভবিষ্যতে কুমারখালী উপজেলা সমিতি ঢাকার কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করার প্রত্যাশা জাগিয়ে শেষ হয় নানা নান্দনিকতার মধ্য দিয়ে।
১৩০ বার পড়া হয়েছে