মাদারীপুর-২ আসনে এগিয়ে জাহান্দার আলী মিয়া
বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাদারীপুর-২ সংসদীয় আসনে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন চলছে জোর হিসাব-নিকেশ।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরাসরি অংশ না নেওয়ায় দলটির সমর্থক ভোট কোন প্রার্থীর ঝুলিতে যাবে- তা নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এই আসনে তাদের সমর্থকদের ভোট ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই আসনে বিএনপি থেকে একজন প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও দলের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে থাকলেও একটি ছোট ভোটব্যাংক রয়েছে। তবে জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাদারীপুর-২ আসনটি ছেড়ে দিয়েছে জামায়াত। তবুও এতে ভোটের চিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেই মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও নিজ সম্প্রদায়ের ভোটারদের উল্লেখযোগ্যভাবে আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এলাকায় অবস্থান করে রাজনীতি চালিয়ে গেছেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ থাকায় বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মীর সমর্থন তিনি পাচ্ছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বহু সমর্থক ভোটারও তার দিকে ঝুঁকছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছেন সব প্রার্থীই। প্রকাশ্য সভা, সামাজিক অনুষ্ঠান ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী সমর্থকদের নানা আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। এমনকি জেলা আওয়ামী লীগের পরিচিত অনেক মুখকেও বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সক্রিয় থাকতে দেখা যাচ্ছে।
ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি জাহান্দার আলী মিয়ার। তিনি মাদারীপুর কলেজ (তৎকালীন নাজিমুদ্দিন কলেজ) ছাত্র সংসদে জিএস নির্বাচিত হন এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনে একাধিকবার অংশ নিলেও জয় পাননি। অতীতে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির টিকিট পেয়েছেন।
দীর্ঘদিন এলাকায় অবস্থান করে রাজনীতি করায় একাধিকবার কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি এলাকা ছাড়েননি। তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় থাকায় আওয়ামী সমর্থকদের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এসব বিষয়কেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নিজের শক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।
জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, 'দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলেছিলেন। আমি তার বাস্তব উদাহরণ। দল আমার ওপর আস্থা রেখেছে, আমি বিজয়ের মাধ্যমে সে আস্থার মর্যাদা রাখবো।'
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হন মিল্টন বৈদ্য। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমানে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি নির্বাচিত হতে পারেননি।
এবার বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করায় এলাকায় তার রাজনৈতিক উপস্থিতি সীমিত বলে অভিযোগ রয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হয়েও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় নিজ সম্প্রদায়ের কাছেও তিনি প্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা পাননি বলে স্থানীয়দের মত। বিএনপি ও আওয়ামী- দুই পক্ষের সমর্থনই তিনি তুলনামূলকভাবে কম পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ খেলাফত মসলিসের প্রার্থী মাওলানা আব্দুস ছোবাহান খান খেলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য এবং খেলাফত মসলিসের মহাসচিব মামুনুল হকের বাবার ছাত্র। বর্তমানে তিনি ঢাকায় বসবাস করেন এবং ওমরা ও হজ ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
মাদারীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার উপস্থিতি সীমিত হওয়ায় ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। তবে তিনি আশাবাদী হয়ে বলেন, 'আমি নতুন হলেও ১০ দলীয় জোট নতুন নয়। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে জয় অসম্ভব নয়। আমার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া।'
সব মিলিয়ে মাদারীপুর-২ আসনে নির্বাচনী লড়াই ক্রমেই জমে উঠছে। তবে আওয়ামী সমর্থকদের ভোট যেদিকে যাবে, শেষ পর্যন্ত বিজয়ের পাল্লা সেদিকেই ভারী হবে- এমনটাই ধারণা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের।
১০৬ বার পড়া হয়েছে