সর্বশেষ

জাতীয়আজ শহীদ আসাদ দিবস
বাংলাদেশে পবিত্র শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি
সারাদেশ৭ মাসে ৬ খুনের দায় স্বীকার করল ‘ভবঘুরে’ যুবক, পরিচয় ঘিরে রহস্য
আন্তর্জাতিকআফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৭
খেলাবিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত, অনড় অবস্থানে আইসিসি
অপরাধ

৭ মাসে ৬ খুনের দায় স্বীকার করল ‘ভবঘুরে’ যুবক, পরিচয় ঘিরে রহস্য

সাজিয়া আক্তার
সাজিয়া আক্তার

মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:০৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ঢাকার অদূরে সাভারের ব্যস্ত থানা রোড এলাকার একটি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার ঘিরে উঠে এসেছে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত সাত মাসে ওই ভবন ও আশপাশের এলাকা থেকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছে এক ভবঘুরে যুবক। তবে তার প্রকৃত পরিচয় ও ঠিকানা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার যুবকের নাম মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট বলে সে দাবি করলেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ে তার কোনো জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি। নিজেকে সাভারের বাসিন্দা বললেও তার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মশিউর গত সাত মাসে সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। রোববারের দুটি হত্যাসহ সবগুলো ঘটনাই ঘুমন্ত অবস্থায় সংঘটিত হয়েছে বলে তার ভাষ্য। নিহতরা সবাই ভবঘুরে ধরনের মানুষ, যারা রাতে পরিত্যক্ত ভবনটিতে আশ্রয় নিত।

পুলিশের ভাষ্যমতে, মশিউর গলায় মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করত। পরে কয়েকটি মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয় সে, যাতে পরিচয় শনাক্ত করা না যায়। তার কাছে সব সময় দিয়াশলাই থাকত বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। কেন সে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং এর পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

পুলিশ সূত্র জানায়, একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। সেই ফুটেজে একটি মরদেহ কাঁধে নিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায় মশিউরকে। ওই ফুটেজ বিশ্লেষণের পর তাকে আটক করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দিনে মশিউর সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ভবঘুরের মতো ঘোরাফেরা করত। কখনও স্বাভাবিক, কখনও অস্বাভাবিক আচরণ করায় স্থানীয়রা তাকে ‘সাইকো সম্রাট’ নামে ডাকত। তবে পুলিশের মতে, তার মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, সর্বপ্রথম গত বছরের ২৯ আগস্ট পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে হাত বাঁধা ও অর্ধগলিত অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ১১ অক্টোবর একই ভবনের বাথরুম থেকে এক নারীর গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। ১৯ ডিসেম্বর উদ্ধার হয় আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ। সর্বশেষ গত রোববার দ্বিতীয় তলা থেকে এক যুবক ও ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া সাভার মডেল মসজিদসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের পেছন থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এই ছয়টি ঘটনায় পৃথক হত্যা মামলা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, রোববার দুপুরে ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পরিত্যক্ত ভবনটি জেলা পরিষদ ও পৌরসভার মামলার জেরে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষে এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ চিত্র প্রকাশ পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

১১৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
অপরাধ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন