সীতাকুণ্ডে অভিযানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাব কর্মকর্তা নিহত, আহত ৩
সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় আরও তিন র্যাব সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমূল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত র্যাব কর্মকর্তার নাম মো. মোতালেব হোসেন। তিনি র্যাব-৭–এ ডিএডি পদে কর্মরত ছিলেন। আহত তিন সদস্যকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এ ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট (এসপি) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে র্যাবের একটি দল জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে গুলি চালায়। এতে চারজন র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত র্যাব সদস্য, থানা পুলিশ এবং তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক ডিএডি মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি তিনজন বর্তমানে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, সীতাকুণ্ড থানার আওতাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সরকারি জমি দখল, পাহাড় কাটা, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ সেখানে সক্রিয় রয়েছে। এলাকাটির ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যানবাহন প্রবেশ করলেই পাহারাদারদের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে যায়। এরপর পাহাড়ের ওপর থেকে গুলি, ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে তারা হামলা চালায়।
এর আগেও একাধিকবার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ওসি ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ২০২২ সালেও র্যাব, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ওপর কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এ এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা আরও বেড়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ৪ অক্টোবর জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকায় ইয়াছিন ও রোকন-গফুর বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে রোকন বাহিনীর এক সদস্য নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। এর পরদিন সেখানে সংবাদ সংগ্রহে গেলে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
১০৮ বার পড়া হয়েছে