মাদারীপুরে সরকারি গুদামে নিম্নমানের চাল, পশুখাদ্য হিসেবে বিক্রি
সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাদারীপুর সদর উপজেলার সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে সরকার নির্ধারিত ভালো মানের চাল সংগ্রহের বদলে নিম্নমানের হাইব্রিড চাল গুদামজাত করা হচ্ছে। স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীরা জানায়, এসব চাল খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়।
সরকার এবছর সদর উপজেলায় আমন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৬৬৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইটেরপুল মাদারীপুরে ৩০০ মেট্রিক টন ও চরমুগরিয়া গুদামে ৩৬৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি চালের দাম ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরকারি গুদামগুলোতে সংগ্রহ করা চালের মান নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সবচেয়ে নিম্নমানের হাইব্রিড চালও গুদামে জমা হচ্ছে।
গুদাম থেকে স্যাম্পল পরীক্ষা করলে দেখা গেছে, এ মৌসুমের সবচেয়ে নিম্নমানের চালই সরকারি গুদামে গুদামজাত হচ্ছে। কিন্তু গোডাউন ইনচার্জরা বিষয়টি মানতে নারাজ। চরমুগরিয়া গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ মল্লিক বলেন, 'আমাদের প্রায় সব চালই ভালো মানের। হয়তো কিছু চাল এদিক ওদিক হতে পারে। আমরা সরকারের নির্দেশনা মেনে চাল সংগ্রহ করছি।” ইটেরপুল মাদারীপুর গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় সাহা জানান, 'মিলাররা বেশি হাইব্রিড চাল দিচ্ছে। এর দাম কম, আমাদের আর কি করার আছে?”
চাল ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, এসব নিম্নমানের চাল তারা বিক্রি করে না। মূলত এগুলো পশু-পাখির খাবারের দোকানে বিক্রি হয়। মো. নুরুল ইসলাম, আবুল কালাম বেপারী ও কেরামত আলী বলেন, 'আমরা এই ধরনের চাল বিক্রি করি না। এগুলো সরকারি গুদামের। রিক্সাওয়ালারাও কিনে না।' চাল ব্যবসায়ী শাহ আলম বেপারী ও নাইম তালুকদার আরও জানান, এই চাল হাঁস-মুরগি ও অন্যান্য পশুপাখিকে খাওয়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয় এবং ফিড উৎপাদনে কাজে লাগে।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'নিম্নমানের চাল সংগ্রহের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
১৩৭ বার পড়া হয়েছে