সর্বশেষ

জাতীয়একাত্তরের স্বাধীনতা রক্ষায় চব্বিশের যুদ্ধ, এরাও 'মুক্তিযোদ্ধা': তারেক রহমান
আজ শেষ দিনের মতো মনোনয়ন আপিল শুনানি, প্রতীক বরাদ্দের প্রস্তুতি ইসির
গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬: স্বাধীন সাংবাদিকতার সুরক্ষায় ঐক্যের আহ্বান
ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন: একদিনে ২১৬৭ মামলা
সারাদেশসলঙ্গায় বিদ্যুৎ মেরামতের সময় খুঁটি থেকে পড়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মৃত্যু
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এনায়েতপুরীর (রঃ) ১১১তম ওরশ সম্পন্ন
কলাপাড়ায় মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ, ৬ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ
নোয়াখালীতে ছয় মামলার আসামিকে পিটিয়ে হত্যা, বাজারে মিষ্টি বিতরণ
আন্তর্জাতিকইসরায়েলে বিক্ষোভ: শেষ জিম্মি রন গিভিলির দেহ ফেরত আনার দাবি
ইউরোপের ৮ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের ঘোষণা
খেলাবাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশ্বকাপ ২০২৬ টিকিট আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয়ের শুরু বাংলাদেশ দলের, যুক্তরাষ্ট্র হারল ২১ রানে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ পরিবর্তন হবে না, শ্রীলঙ্কায় খেলবে তারা
মতামত

এলপিজি বাজারে অস্থিরতা: কল্যুশনের অভিযোগ তুলেও দায় এড়াচ্ছেন জ্বালানি উপদেষ্টা

মনজুর এহসান চৌধুরী
মনজুর এহসান চৌধুরী

রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৮:০২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশে চলমান রান্নার গ্যাস সংকটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছালেও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ নিতে সরকার ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছে- এমন অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা।

দৈনিক চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি, আমদানি–নির্ভরতা, শিপিং–সংকট ও শীতকালীন অতিরিক্ত চাহিদা মিলিয়ে সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক সংকট দেখা দিয়েছে; নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি এবং পাইকারি–খুচরা পর্যায়ে গ্যাস না পাওয়ায় নিত্যদিনের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘরে ঘরে চুলা নিভে যাওয়ায় কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, তবু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের দৃশ্যমান ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপের অভাব জনরোষকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সংকটের পটভূমিতে রয়েছে দীর্ঘদিনের নীতিগত ভুল ও আমদানি–নির্ভরতার ফাঁদ। স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে যাওয়া, নতুন অনুসন্ধান ও উন্নয়ন প্রকল্পে গড়িমসি, এলএনজি–এক্সপানশন স্থগিত থাকা এবং গ্যাস–চাহিদা দৈনিক প্রায় ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছালেও সরবরাহ ২৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটের ঘরে আটকে থাকায় কাঠামোগত ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ওপর ২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে বৈশ্বিক ভেসেল–সংকট, উচ্চ শিপিং খরচ এবং শীতকালীন বাড়তি চাহিদার কারণে এলপিজি–আমদানি ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ আরও কমে গেছে। সমালোচকরা বলছেন, আগের রাজনৈতিক সরকারের সময়ে আমদানি–নির্ভরতা বাড়িয়ে স্থানীয় অনুসন্ধান ও রিজার্ভ বাড়ানোর কাজ পেছনে পড়ে থাকায় আজকের সংকট আসলে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত ব্যর্থতারই ফল।

এ অবস্থায় বাজারে এলপিজির একটি অংশ মজুত থাকলেও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে এবং ডিলার–খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম হাঁকছে—এমন অভিযোগ জনমনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন জেলায় হঠাৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া, কোথাও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার মাধ্যমে ‘স্টক হোল্ডিং’ ও বাজার–ম্যানিপুলেশনের প্রমাণও সামনে এসেছে বলে ভোক্তা সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের ধর্মঘট ও পরিবহন–বাধার কারণে জানুয়ারির শুরু থেকে সরবরাহ আরও ভেঙে পড়ায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৭০০ থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।

সরকারি পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দেশে এলপিজির সামগ্রিক মজুত ‘পর্যাপ্ত’ এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে; ভোক্তা অধিদপ্তর ও প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ঘোষণাও এসেছে। কিন্তু বাস্তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, এসব অভিযান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আইওয়াশে সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে; বড় সিন্ডিকেট বা প্রভাবশালী ডিস্ট্রিবিউটরদের বিরুদ্ধে কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বা লাইসেন্স বাতিলের দৃশ্য এখনও তারা দেখতে পাচ্ছেন না। ফলে গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে আসার বদলে প্রতিদিনই নতুন অজুহাতে আরও ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে, আর সেই সঙ্গে আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল ও উপদেষ্টাদের প্রতি।

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফৌজুল কবির খান প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে গ্যাস–সংকটের বড় অংশই কৃত্রিম এবং এটি মূলত রিটেলার–হোলসেলারদের ‘কল্যুশন’ বা আঁতাতের ফল; তার ভাষায়, সরকার সব ধরনের সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিচ্ছে যাতে ভোক্তারা আর জ্বালানি–সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি না থাকে এবং সরকারি খাতে এলপিজি আমদানি করে বাজার স্থিতিশীল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি একই সঙ্গে দাবি করেছেন, প্রকৃত সাপ্লাই–অভাব নয়, বরং বিতরণব্যবস্থার দুর্বলতা ও বাজার–ম্যানিপুলেশনই সংকটকে তীব্র করেছে; এলএনজি আমদানি বাড়ানো হয়েছে এবং শিল্প–কৃষিকে অগ্রাধিকার দিয়ে গৃহস্থালি সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হবে। সমালোচকদের মতে, তার এই বক্তব্যে যেমন সিন্ডিকেটের ভূমিকা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, তেমনই সরকারের নিজস্ব নীতিগত দায় ও দীর্ঘদিনের আমদানি–নির্ভরতার ভুলকে তুলনামূলকভাবে আড়াল করার চেষ্টা রয়েছে।

অধিকারকর্মী ও ভোক্তা সংগঠনগুলো বলছে, সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী স্তরে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে কোনো সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়; শুধু বক্তব্য ও দায় চাপিয়ে দেওয়ার বদলে দ্রুত সরকারি আমদানি, কঠোর আইনগত ব্যবস্থা, বড় জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের মাধ্যমে বাজারে শক্ত বার্তা না পাঠালে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে। জনস্বার্থ উপেক্ষা করে জ্বালানির মতো কৌশলগত খাতে এমন বিশৃঙ্খলা চলতে দেওয়া রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকেও সরে যাওয়ার শামিল—আর সেই ব্যর্থতার কেন্দ্রে রয়েছেন উপদেষ্টামণ্ডলীসহ পুরো জ্বালানি–নীতিনির্ধারক মহল, এমন মত ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন