চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপি জামায়াতের কতজন প্রার্থী কোটিপতি
রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:০৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন কোটিপতি। প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তারা নিজেদের আয় ও সম্পদের হিসাব দিয়েছেন।
তিনটি আসনেই বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্যরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তিনজনই কোটিপতি হিসেবে তালিকাভুক্ত। এদের মধ্যে সর্বাধিক সম্পদের মালিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিনুল ইসলাম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক শাহাজাহান মিঞা তাঁর হলফনামায় মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ২ কোটি ৭৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৫৪ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৫ টাকা। কৃষিখাত, বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। তাঁর নামে একটি গাড়ি থাকলেও কোনো ঋণের তথ্য উল্লেখ করেননি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল ইসলামের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৩ কোটি ২৫ লাখ ৪৮ হাজার ৩৩৮ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ৪৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা। কৃষিখাত ও ব্যবসা থেকে তিনি এই আয় করেন। তাঁর নামেও একটি গাড়ি রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হারুনুর রশীদের বার্ষিক আয় ১৭ লাখ ৩৭ হাজার ৯২২ টাকা। তাঁর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৯২ হাজার ৪৩১ টাকা। ব্যবসা, কৃষিখাত এবং বাড়ি ও ফ্ল্যাট ভাড়া থেকে তিনি আয় করেন। এর মধ্যে ব্যবসা থেকেই তাঁর সর্বোচ্চ আয়। তাঁর নামে তিনটি বাড়ি, দুটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং একটি জিপ গাড়ি রয়েছে।
এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী আব্দুল হালিমও কোটিপতির তালিকায় রয়েছেন। হলফনামায় তিনি তাঁর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় মাত্র এক লাখ টাকা, যা সম্পূর্ণভাবে কৃষিখাত থেকে আসে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী খুরশিদ আলমের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার ৩৫০ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ৪ লাখ ১ হাজার ৩৫০ টাকা। ব্যবসা এবং বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া তাঁর আয়ের উৎস।
অন্যদিকে, তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের কেউই কোটিপতি নন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. কেরামত আলীর সম্পদের পরিমাণ ৩৬ লাখ ৮৭ হাজার ৩৪৩ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। কৃষি, বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া ও অন্যান্য খাত থেকে তিনি আয় করেন। তাঁর নিজের নামে কোনো গাড়ি নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. মিজানুর রহমানের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৫ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৬৫ টাকা। কৃষিখাত, ব্যবসা ও শিক্ষকতা পেশা থেকে তিনি এই আয় করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুলের সম্পদের পরিমাণ ৪৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯০৪ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৪১ হাজার ৩২২ টাকা। ব্যবসা ও পরামর্শক পেশা তাঁর আয়ের উৎস হলেও পরামর্শক হিসেবেই তিনি বেশি আয় করেন।
১১৭ বার পড়া হয়েছে