কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে শীতবস্ত্র বিতরণ, চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দাবি জোরালো
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। নদীবেষ্টিত ও যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন এসব এলাকায় সীমিত আয়ের কারণে শীতবস্ত্র জোগাড় করা অনেক পরিবারের পক্ষেই সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটি।
শুক্রবার দুপুরে চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন চিলমারী ইউনিয়নের কড়াই বরিশাল চরে প্রায় দুই শতাধিক অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। জেলা চর উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল হক, উলিপুর উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, চিলমারী উপজেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাচ্চু, সাংবাদিক ফয়সাল হক রকি, এস এম রাফিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। শীত, বন্যা ও খাদ্যসংকটসহ প্রতিটি দুর্যোগে তাদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। কম্বল বিতরণ তাৎক্ষণিক সহায়তা হলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়। চরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য যেমন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় রয়েছে, তেমনি দেশের চরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে আলাদা ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন সময়ের দাবি। দেশের ৩২টি জেলার প্রায় ১০০টি উপজেলার নদীতীরবর্তী চর ও দ্বীপচরের প্রায় দুই কোটি মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ কাঠামো জরুরি।
স্থানীয় চরবাসীরা জানান, নদীঘেরা চরে শীতের তীব্রতা শহরের তুলনায় অনেক বেশি। কাজের সুযোগ কম থাকায় একটি কম্বলও তাদের জন্য বড় সহায়তা। জেলা চর উন্নয়ন কমিটির নেতারা বলেন, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও জীবনযাত্রার ভিন্নতার কারণে চরাঞ্চলের সমস্যার টেকসই সমাধানে আলাদা পরিকল্পনা প্রয়োজন, যা একটি পৃথক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব।
মানবিক এই উদ্যোগ চরবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ন্যায্য দাবিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
১৩১ বার পড়া হয়েছে