ঠাকুরগাঁওয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের তৎপরতায় জাল দলিল চক্রের এক সদস্য আটক
বৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:৩৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে সাব-রেজিস্ট্রারের সতর্কতায় জাল দলিল সরবরাহকারী একটি চক্রের সদস্যকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মুজিবুর রহমানকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, রানীশংকৈল পৌর শহরের ভান্ডারা গ্রামের বাসিন্দা মকলেছুর রহমান ভান্ডারা মৌজার ১৫৫৯ দাগের ৩৯ শতক জমি থেকে ৩ শতক জমি তার ছেলের নামে ওসিয়তনামা দলিল করার উদ্দেশ্যে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান। দলিল লেখক স্বাধীন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে দলিল প্রস্তুত করে তা সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে উপস্থাপন করেন।
এ সময় দলিলের সঙ্গে সংযুক্ত জাবেদা নকলটি সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রেকর্ড রুমে খোঁজ নিয়ে যাচাই-বাছাই করেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, রেকর্ডভুক্ত স্বাক্ষরের সঙ্গে উপস্থাপিত নকলের স্বাক্ষরের মিল নেই, যা জালিয়াতির প্রমাণ বহন করে।
পরে দাতা ও গ্রহীতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, হরিপুর উপজেলার বড়ুয়াল গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মুজিবুর রহমান ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে জাল জাবেদা নকলটি সরবরাহ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কৌশলে মুজিবুর রহমানকে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ডেকে আনা হয়। সেখানে তিনি জাল দলিল তৈরির কথা স্বীকার করেন এবং এই চক্রের সঙ্গে হরিপুর উপজেলার খিরাইচন্দি গ্রামের মানিক নামের আরও একজন জড়িত থাকার তথ্য দেন।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জাল দলিল চক্রের সদস্য মুজিবুর রহমানকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার নাহিদুল ইসলাম বলেন, “দলিলের সঙ্গে সংযুক্ত জাবেদা নকলটি প্রথম দেখাতেই আমার সন্দেহ হয়। রেকর্ড রুমে যাচাই করে তা জাল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে বিষয়টি স্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
তার এই উদ্যোগে জাল দলিল চক্রের তৎপরতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
১০৬ বার পড়া হয়েছে