বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষে পাঁচ বিমানঘাঁটি পুনরায় সচল করছে ভারত
মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:০০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একাধিক পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। আঞ্চলিক যোগাযোগ ও কৌশলগত নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। খবর জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা বাড়াতেই এই উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমন এক সময়ে এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এলো, যখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছে দিল্লি।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার খবর ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিটি শিলিগুড়ি করিডরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় বিষয়টিকে কৌশলগতভাবে স্পর্শকাতর মনে করছে ভারত।
উল্লেখ্য, শিলিগুড়ি করিডর হলো উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থলসংযোগ। গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রসঙ্গ উঠে আসায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
তবে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে জাতীয় প্রয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং কোনো বিদেশি সামরিক শক্তির জন্য এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই।
এরপরও ভারত কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা সূত্র। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া, বিহারের কিষানগঞ্জ এবং আসামের ধুবড়িতে ‘লাচিত বরফুকন’ নামে তিনটি নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে।
যেসব বিমানঘাঁটি পুনরায় সচল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবড়ি। এছাড়া কোচবিহার ও আসামের কোকরাঝাড় জেলার রূপসী বিমানঘাঁটি ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু করেছে।
এয়ারপোর্টস অথোরিটি অব ইন্ডিয়া (এএআই) জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সংশ্লিষ্ট বিমানঘাঁটিগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “রানওয়েগুলো যেন যে কোনো সময় অপারেশনাল ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত থাকে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
প্রতিরক্ষা সূত্র আরও জানায়, এসব পুরোনো এয়ারস্ট্রিপ কার্যকর করতে নানা প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এগুলোকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
১০৯ বার পড়া হয়েছে