টানা দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে রক্তক্ষয়ী ইরান, নিহত প্রায় দুই হাজার: রয়টার্স
মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে ইরান। এই সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ মোট প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। দেশজুড়ে চলমান গণ-আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে এটিই তেহরানের পক্ষ থেকে প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি।
ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর পেছনে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ জড়িত। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ নাগরিক এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।
মূলত দেশের দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থা এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়। গত তিন বছরের মধ্যে এটি ইরানি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্ব এই আন্দোলন মোকাবিলায় দ্বৈত কৌশল নিয়েছে। একদিকে তারা অর্থনৈতিক কারণে জনগণের ক্ষোভকে যৌক্তিক বলে স্বীকার করছে, অন্যদিকে রাজপথে কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। চলমান অস্থিরতার জন্য ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। সরকারের ভাষ্য, পরিচয়হীন কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো আগেই কয়েকশ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা এবং হাজার হাজার গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছিল। তবে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং যোগাযোগের ওপর কড়াকড়ি থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতির সঠিক চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
রয়টার্সের যাচাইকৃত সাম্প্রতিক ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। ভিডিওতে গুলির শব্দ, যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের দৃশ্যও ধরা পড়েছে।
১১৫ বার পড়া হয়েছে