মাদারীপুরের প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগ প্রক্রিয়া শুরু
সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী, সরকারি চাকুরিজীবী, আনসার ও ভিডিপি, কারাবন্দিসহ নির্বাচনে দায়িত্বরতরা এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
মাদারীপুর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোট প্রদানের জন্য মোট ১৯,২৫০ জন আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ১৯,১৬১ জনের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে, এবং ৮৯ জনের আবেদন এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচনের সময় শুধুমাত্র অনুমোদিত আবেদনকারীরাই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ভোটারদের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হবে এবং তারা ভোট খামে ভরে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে মাদারীপুর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাবেন। পরে জেলা রিটার্নিং অফিসার ভোটগুলো সংরক্ষণ করে নির্বাচনের দিনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটের সাথে গণনা করবেন।
প্রায় লক্ষাধিক প্রবাসীর বাড়ি মাদারীপুর জেলায় হলেও আগে তারা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত থাকতো। ত্রয়োদশ নির্বাচনে সরকার প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে নতুন প্রক্রিয়ার কারণে প্রবাসীদের বড় অংশ এই নির্বাচনে ভোট দিতে আবেদন করতে পারেনি বা করেনি।
মোট ১৪,৮৪৯ জন প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ প্রবাসীর সংখ্যা ১৩,৩৩৭ জন এবং মহিলা প্রবাসীর সংখ্যা ১,৫১২ জন। এছাড়া ৭৮ জন প্রবাসীর আবেদন এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রবাসী, সরকারি চাকুরিজীবী, নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত, আনসার ও ভিডিপি এবং কারাবন্দিদের মধ্যে মোট ৫,৪০১ জন আবেদন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ আবেদনকারী ৪,২৭৯ জন এবং মহিলা ১,১২২ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে ১১ জন।
সরকারি চাকুরিজীবীদের মধ্যে আবেদনকারী ৪,৪৭৬ জন। নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে আবেদন করেছেন ৮৬৫ জন, এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মধ্যে আবেদন করেছেন মাত্র ৫ জন।
মাদারীপুর জেলা জেল কারাগারে মোট ৪৬৭ জন কারাবন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ৫৫ জন আবেদন করেছেন। জেল সুপার মো. শামীম ইকবাল যুগান্তরকে বলেন, কারাবন্দিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবে এই বিষয়টি জানার পর প্রত্যেক কারাবন্দিকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যারা স্বেচ্ছায় ভোট দিতে চেয়েছে তাদের আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। যখন ব্যালট আসবে, তা কারা আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। কম সংখ্যক আবেদন নিয়ে তিনি জানান, 'আমরা সবাইকে জানিয়েছি, তবে কাউকে জোর করে প্রেরণ করা সম্ভব নয়। স্বেচ্ছায় যারা ভোট দিতে চেয়েছে তাদেরই আবেদন নেওয়া হয়েছে।'
জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম জানান, সরকার পোস্টাল ব্যালটে ভোট বিষয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে। জেলা প্রশাসনও প্রতিটি অফিসে চিঠি পাঠিয়েছে এবং জেলার জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি বুঝিয়ে প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বলেন, 'এবারই প্রথম পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা। জেলায় প্রচুর সংখ্যক মানুষ প্রবাসে আছে, তাই অনেকে বিষয়টি বুঝতে পারেনি। আবার অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে আবেদন করেননি। বিভিন্ন কারণে অনেকে আবেদন করতে পারেননি। প্রথমবারের এই প্রক্রিয়াতেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আবেদন করেছে। ভবিষ্যতে পোস্টাল ভোটার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করি।'
১০৯ বার পড়া হয়েছে