মাগুরায় পাটকাঠি ঘিরে নীরব অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ
রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:৪০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাগুরার নদীতীরবর্তী জনপদগুলোতে শীত মৌসুম এলেই শুরু হয় এক ভিন্ন ধরনের ব্যস্ততা। পাট কাটার মৌসুম শেষ হলেও কৃষকের কাজ থেমে থাকে না।
আঁশ ছাড়ানোর পর পড়ে থাকা পাটগাছের শক্ত কাণ্ড, পাটকাঠিই এখন হয়ে উঠেছে স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
জেলার মহম্মদপুর উপজেলার এলাংখালী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায় সারি সারি পাটকাঠির আটি। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত জাফর শেখ জানান, কার্তিক থেকে পৌষ এই তিন মাসই তাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। গ্রাম থেকে পাটকাঠি সংগ্রহ করে পরিষ্কার ও আটি বেঁধে প্রতি মন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরার পাটকাঠির চাহিদা শুধু জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল, শরীয়তপুর ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এখানে এসে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যান। পাশাপাশি জেলার কয়েকটি চারকোল কারখানায় এই পাটকাঠি ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে শতভাগ প্রাকৃতিক চারকোল, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানিতেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
শালিখা উপজেলার বরইচারা গ্রামের কৃষক কাত্তিক বিশ্বাস বলেন, গ্রামের অনেক পরিবার এখন পাটকাঠির ওপর নির্ভরশীল। খাল-বিল সমৃদ্ধ এলাকায় ভালো পাট হয়। ঘরের কাজে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত পাটকাঠি বিক্রি করেই অনেক কৃষক সংসারের খরচ চালাচ্ছেন।
পাটকাঠির ব্যবহারও আগের তুলনায় বেড়েছে। আগে এটি শুধু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখন রান্না, ইটভাটা, বায়োচার ও চারকোল তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে বাজারে চাহিদা স্থিতিশীল থাকছে এবং দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বরইচারা অঞ্চলে প্রতি মন পাটকাঠি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক কৃষক নিজেরাই ভ্যানে করে দূরে গিয়ে পাটকাঠি বিক্রি করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাটকাঠির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কম খরচে উৎপাদন। পাট চাষের পর অতিরিক্ত কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই এটি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করছে। আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা গেলে মাগুরার পাটকাঠি ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপ নিতে পারে।
গ্রামের সাধারণ মানুষের শ্রম আর উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই নীরব অর্থনীতি মাগুরার কৃষিজ জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাচ্ছে।
১২৮ বার পড়া হয়েছে