সিরিয়ায় আইএস ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বিমান হামলা
রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর অবস্থান লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র বাহিনী।
মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা পরিচালিত হয়। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ওপর আইএসের প্রাণঘাতী হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ দমন এবং অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য।
সেন্টকমের ভাষ্য, “আমাদের বার্তা স্পষ্ট—যদি আমাদের সেনাদের ক্ষতি করা হয়, তাহলে আমরা হামলাকারীদের যেখানেই থাকুক খুঁজে বের করব এবং তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি করব।”
বিবিসির সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে ২০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। ৩৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ৯০টিরও বেশি নির্ভুল অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া বিমানগুলোর মধ্যে ছিল এফ-১৫ই, এ-১০, এসি-১৩০জে, এমকিউ-৯ ড্রোন এবং জর্ডানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।
হামলার নির্দিষ্ট স্থান ও এতে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
শনিবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, “আমরা কখনো ভুলব না, কখনো থামব না।”
গত ডিসেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবারের মতো ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’-এর ঘোষণা দেয়। তার আগে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলের পালমিরায় আইএস বন্দুকধারীদের হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক মার্কিন বেসামরিক দোভাষী নিহত হন।
ডিসেম্বরে অভিযানের ঘোষণা দিতে গিয়ে হেগসেথ বলেছিলেন, “এটি কোনো নতুন যুদ্ধের সূচনা নয়, এটি প্রতিশোধের ঘোষণা। যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিক ও সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কখনো পিছপা হবে না।”
সেন্টকম জানায়, শনিবারের সর্বশেষ অভিযানের আগে ২০ থেকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’-এর আওতায় পরিচালিত ১১টি অভিযানে প্রায় ২৫ জন আইএস সদস্যকে হত্যা বা আটক করা হয়েছে।
এই অভিযানের প্রথম মিশন পরিচালিত হয় ১৯ ডিসেম্বর। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডানের বাহিনী যৌথভাবে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে আইএসের বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। ওই অভিযানে যুদ্ধবিমান, আক্রমণকারী হেলিকপ্টার ও কামান ব্যবহার করে ৭০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয় এবং আইএসের অবকাঠামো ও অস্ত্রাগার ধ্বংসে ১০০টিরও বেশি নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
১১০ বার পড়া হয়েছে