ফটিকছড়িতে বন বিভাগের অভিযানে বাধা, গণহামলায় বন কর্মকর্তা আহত
শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ৯:২৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বন বিভাগের সংরক্ষিত পাহাড়ি ভূমি দখল করে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে গিয়ে সংগঠিত গণহামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তাসহ চারজন।
এ ঘটনায় খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের মানিকছড়ি অংশে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টার দিকে ফটিকছড়ির ধলিয়াছড়ি এলাকায় বন বিভাগের একটি দল অভিযান শুরু করলে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের সময় স্থানীয় একটি মসজিদে হামলার গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে উসকানি পেয়ে স্থানীয় জনতা অভিযান পরিচালনাকারী দলের ওপর চড়াও হয়।
হামলায় সহকারী বন সংরক্ষক আবরারুর রহমান, নারায়ণহাট বন বিটের কর্মচারী মাহফুজ আলী, ফরেস্ট রেঞ্জার বাচ্চু মিয়া এবং একটি স্কেভেটরের চালক বিপ্লব গুরুতর আহত হন। প্রাণরক্ষার্থে তাঁরা পালিয়ে মূল সড়কে উঠলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনোজ চৌধুরী।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রাউজান উপজেলার বাসিন্দা পীর শাহ আলম নঈমী হুজুর দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়ি ও পার্শ্ববর্তী বন বিভাগের সংরক্ষিত এলাকায় পাহাড় কেটে মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ একাধিক স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিলেন।
অন্যদিকে, সড়ক অবরোধে অংশ নেওয়া রহিমা বেগম, মনসুর আলী ও মেহেরুননিসা দাবি করেন, দরিদ্র শিশুদের জন্য মাদ্রাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কোনো পূর্ব আলোচনা ছাড়াই বন বিভাগ উচ্ছেদে নামায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে বন বিভাগের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ও মানিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
১৩৪ বার পড়া হয়েছে