ঝিনাইদহে লাগামহীন মাটি খেকোদের দৌরাত্ম, হুমকির মুখে কৃষি জমি
মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:০৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঝিনাইদহ জেলার ছয়টি উপজেলাজুড়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে মাটি খেকোদের তৎপরতা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও জরিমানা করা হলেও অদৃশ্য প্রভাব ও নানা ‘ম্যানেজমেন্টের’ কারণে ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে এসব চক্র। এর ফলে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমির উর্বরতা, অন্যদিকে অবৈধ যান চলাচলে ঝুঁকির মুখে পড়ছে জনজীবন ও সড়ক অবকাঠামো।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বোরো মৌসুম সামনে রেখে কৃষকদের বীজতলায় সবুজ চারা দুলছে। আমন ধান কাটার পর বহু কৃষি জমি এখন ফাঁকা পড়ে আছে। এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা। তারা কৃষি জমির টপ সয়েল ও পুকুর খনন করে সেই মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছে। এতে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব মাটি পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ ট্রলি সংযুক্ত ট্রাক্টর। উচ্চ শব্দে মাটি বোঝাই এসব যানবাহন দিন-রাত অবাধে চলাচল করছে সড়ক ও মহাসড়কে। এর ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা—প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটছে। পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাটি ব্যবসায়ী জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ভূমি কর্মকর্তা, পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করেই তারা ব্যবসা চালাচ্ছেন। কেউ কেউ আরও বলেন, টাকা না দিলে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে পুলিশ ও কিছু নামধারী সাংবাদিকদের চাপ বেশি থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে।
একজন পুরোনো মাটি ব্যবসায়ী বলেন, “সবাইকে টাকা দিয়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু কেউ দায়িত্ব নেয় না। ভ্রাম্যমাণ আদালত এলে আগেই খবর চলে আসে। এখন নতুন নতুন লোক ব্যবসায় নামছে—তারা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙিয়ে দাপট দেখাচ্ছে।”
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক মোঃ মুন্তাছির রহমান জানান, কৃষি জমির টপ সয়েল রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও কৃষকদের নিয়ে ইতোমধ্যে ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে কৃষকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, “কৃষি জমির প্রধান পুষ্টি উপাদান থাকে টপ সয়েলে। সেটি কেটে নেওয়া হলে জমির উর্বরতা কমে যায় এবং উৎপাদন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” তিনি জানান, কৃষকদের নিয়মিত সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।
জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, “কৃষি জমির টপ সয়েল রক্ষায় সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কোথাও এমন অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
১৮৮ বার পড়া হয়েছে