কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন, শীত আরো বাড়বে
সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় সারা দেশে শীতের তীব্রতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। হিমেল বাতাসে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী, ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটছে। রাস্তাঘাট ও বাজারে লোকসমাগমও তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে।
রাজধানী ঢাকায় গতকাল রবিবার চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সকালে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য কম। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে—৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, রাজধানীতে শীতের প্রকোপ কিছুটা বেড়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কুয়াশা বেশি হলে শীতের অনুভূতিও বাড়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে আজ সোমবার দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে আসা কুয়াশার বলয় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় প্রবেশ করায় সারা দেশে কুয়াশার পরিমাণ বেড়েছে। ফলে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করতে পারে। তবে পাঁচ দিনের শেষের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি এবং ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।
১২৫ বার পড়া হয়েছে