উগ্র সাম্প্রদায়িক চাপে মোস্তাফিজ বাদ, বিশ্বকাপ ভেন্যু বদলের দাবিতে সরব বাংলাদেশ
রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:৩৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে ভারতের সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে তাকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশ বিরোধী অপমানজনক আচরণ হিসেবে দেখছেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমী ও সচেতন মহলের একটি বড় অংশ।
তাদের অভিযোগ, ভারতের উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করে বিসিসিআই একজন চুক্তিবদ্ধ বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দিতে নির্দেশ দিয়ে শুধু ক্রিকেট নয়, সরাসরি বাংলাদেশের সম্মানকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এই পরিস্থিতিতে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতে খেলতে যাওয়ার বিপক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে বিসিবি ও বাংলাদেশ সরকারের কাছে। সমালোচকরা বলছেন, যেখানে পাকিস্তান নিরাপত্তা ও বৈষম্যমূলক আচরণের অজুহাতে বারবার ভারতে না যাওয়ার নীতি নিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশেরও উচিত স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া—ভারতের মাঠে এখন আর নয়। তাদের ভাষ্য, যে দেশে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার চুক্তি থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক চাপে নিরাপদে খেলতে পারেন না, সেখানে পুরো জাতীয় দলের বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ বা সম্মানজনক নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এ ঘটনায় ভারতের ক্রিকেট বোর্ড ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় জানিয়েছেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে নতি স্বীকার করে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তারা পুরো বিষয়টি আইসিসির কাছে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তোলে। তিনি বোর্ডকে বলতে বলেছেন, যেখানে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হয়েও ভারতে খেলতে নিরাপদ নন, সেখানে বাংলাদেশের সম্পূর্ণ জাতীয় দলও ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারে না।
ড. আসিফ নজরুল আরও জানান, তিনি বোর্ডকে নির্দেশনা দিয়েছেন যেন আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের জন্য আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার–বিষয়ক উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছেন, বাংলাদেশ থেকে আইপিএল খেলার সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে, যাতে যে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের অপমান করা হয়, সেটাকে আর দেশের বাজারে প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতা না দেওয়া হয়।
সমালোচকেরা বলে চলেছেন, “বাংলাদেশের মেরুদণ্ড যদি সত্যিই অটুট থাকে, তবে এখনই ভারতবিমুখ সিদ্ধান্ত ঘোষণা হোক; অন্যথায় প্রমাণ হবে, দেশের ক্রিকেট দিল্লির করুণা আর বোর্ডরুমের দাসত্বেই বন্দি।” তাদের মতে, বিসিবি ও সরকারের এখনই জরুরি বোর্ড মিটিং ডেকে স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া উচিত—বর্তমান বৈষম্যমূলক, বৈরী ও অনিরাপদ পরিবেশে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবে না, এবং বিকল্প ভেন্যুর দাবি উত্থাপন করবে।
ড. আসিফ নজরুলের ভাষ্যে, “আমরা কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটার ও বাংলাদেশকে অবমাননা মেনে নেব না, গোলামীর দিন শেষ।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অবস্থান ব্যাপক সাড়া ফেলেছে; অনেকেই মন্তব্য করছেন, বারবার অপমান, একতরফা দাদাগিরি ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির শিকার হওয়ার পরও যদি বাংলাদেশ দল প্রতিবাদহীন অবস্থায় ভারতে খেলতে যায়, তাহলে ইতিহাস বিসিবি ও সরকারকে কাপুরুষতার দায় থেকে অব্যাহতি দেবে না।
১২৯ বার পড়া হয়েছে