যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন শামা ওবায়েদ, হলফনামায় আয় কমেছে
শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই, গত ২০ নভেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তাঁর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় শামা ওবায়েদ নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (আইজিসিএফ) জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করেন।
হলফনামা অনুযায়ী, শামা ওবায়েদের বার্ষিক আয় ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। এর মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে আয় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, চাকরি থেকে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের মুনাফা থেকে ৪৬ হাজার ৪০৪ টাকা এবং সম্মানী ভাতা হিসেবে পেয়েছেন ৯৬ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের বিবরণে তিনি মোট ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা মূল্য উল্লেখ করেছেন, যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা, শেয়ার ও বন্ডে বিনিয়োগ ৫০ লাখ টাকা এবং একটি জিপ গাড়ি, যার মূল্য ধরা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এছাড়া তিনি ৫০ তোলা সোনার মালিকানা উল্লেখ করলেও এর মূল্য নির্ধারণ করেননি।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে হলফনামায় দেখা যায়, তাঁর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা বর্তমানে আনুমানিক ৯ কোটি টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার বনানীতে অবস্থিত ৩ হাজার ২৪৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট। পাশাপাশি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমির কথাও উল্লেখ করেছেন, তবে এর কোনো আর্থিক মূল্য দেখাননি।
আগের হলফনামার সঙ্গে তুলনা
২০১৮ সালে দাখিল করা হলফনামার সঙ্গে বর্তমান তথ্য তুলনা করে দেখা যায়, সাত বছরের ব্যবধানে শামা ওবায়েদের মোট আয় কমেছে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ টাকা। সে সময় তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৩০ লাখ ৬ হাজার ৮২৫ টাকা।
অন্যদিকে, অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালে তাঁর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ছিল ১ কোটি ৫৩ লাখ ৮২ হাজার ২৮৭ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকায়। অর্থাৎ সাত বছরে এই খাতে সম্পদ বেড়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৩ হাজার ৫১৯ টাকা।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে সামান্য হ্রাস দেখা গেছে। ২০১৮ সালে যেখানে তাঁর স্থাবর সম্পদের মূল্য ছিল ৭ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকায়। সে সময় তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১ দশমিক ৫ একর কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছিলেন, যার মূল্য তাঁর জানা ছিল না। বর্তমান হলফনামায় কৃষিজমির কোনো উল্লেখ নেই, তবে অকৃষিজমির তথ্য যুক্ত হয়েছে।
ঋণের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০১৮ সালে অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে তাঁর নামে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে নেওয়া ৩ কোটি ৫ লাখ টাকার ঋণের তথ্য ছিল। বর্তমান হলফনামায় তিনি কোনো ঋণের কথা উল্লেখ করেননি।
সোনার পরিমাণেও পার্থক্য দেখা যায়। ২০১৮ সালে বিয়ের উপহার হিসেবে পাওয়া ৬০ তোলা সোনার কথা উল্লেখ থাকলেও বর্তমান হলফনামায় সোনার পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫০ তোলা।
১২৬ বার পড়া হয়েছে