বেগম জিয়া: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য নক্ষত্র
রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ৬:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া এক অনন্য মহীয়সী নারী, যাঁর জীবন সংগ্রাম, ত্যাগ ও নেতৃত্ব জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে রাজনীতির প্রতিটি পরতে তাঁর উপস্থিতি এক সাহসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নেতৃত্বের ইতিহাস রচনা করেছে।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে তিনি প্রথমে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও, স্বামীর শাহাদাতের পর তিনি সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামেন এবং বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
গণতন্ত্রের সংগ্রামে নেতৃত্ব শুরু কিভাবে হয়েছে তা কারো অজানা নয়, তাও সংক্ষেপে উল্লেখ করে আমার কিছু কথা —
১৯৮৬ সালের নির্বাচন: সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এই নির্বাচন। খালেদা জিয়া তখনও নতুন নেতা, কিন্তু তাঁর দৃঢ়তাই বিএনপিকে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলে পরিণত করে।
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান: এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল নির্ধারক। তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি ১৯৯১ সালে সরকার গঠন করতে পেরেছিল।
বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ জীবন: বালুর ট্রাক দিয়ে তাঁর বাসভবন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। মাসের পর মাস এই অবরোধ তাঁকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনি দমে যাননি।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনে তিনি অসংখ্যবার কারাবরণ করেছেন, মোকাবেলা করেছেন শত শত ষড়যন্ত্র। ২০০৭-২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার সময় তাঁকে দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ করে রাখা হয়।
এমনকি তাঁর দলকে ভাঙারও চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাঁর নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তা দলের মধ্যে এমন শিকড় গেড়েছিল যে কেউই বিএনপিকে তাঁর নেতৃত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি।
তার দেশপ্রেম ও ত্যাগের অনন্য উদাহরণ ২০০৮ সালের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: যখন তিনি লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখনই ২০০৮ সালের নির্বাচন আসন্ন। তাঁকে বলা হয়েছিল, দেশে ফিরলে জেল হতে পারে। তবুও তিনি সুটকেস গুছিয়ে না থেকে দেশে ফিরে আসেন—মৃত্যু ও কারাবরণ জেনেও। এটি ছিল দেশপ্রেমের এক অনন্য উদাহরণ।
সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছিল ২০০৩ সালের বেনিন দুর্ঘটনায়: বিমান দুর্ঘটনায় several military officers were killed. When their bodies were brought back, Khaleda Zia was seen weeping openly at the airport—a rare public display of emotion that revealed her deep connection with the armed forces.
২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড: This was one of the most tragic incidents in Bangladesh's history. When the bodies of Colonel Elahi, Colonel Gulzar, Colonel Mujib and other officers were brought to the central mosque in Dhaka Cantonment, a heartbreaking scene unfolded.
In one corner of the mosque, amidst a crowd of women, Begum Khaleda Zia was weeping uncontrollably. Her fair face had turned red, and she kept wiping her tears with a handkerchief. People were trying to console her, but she continued to cry like a mother mourning her own children.
Even when her beloved son Koko died, or when her husband was martyred, she never cried so publicly. This showed how deeply she cared for the army officers—they were like her own children to her.
খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে কত গভীরভাবে ধারণ করে তা পরিষ্কার বুঝা যায় যখন তিনি বলেন "বাংলাদেশ আমার ঠিকানা"। আমরা তিনটি শব্দকে হয়ত একটি political slogan হিসেবে দেখি, কিন্তু আমি মনে করি —এই তিনটি শব্দের মাধ্যমে তিনি তাঁর জীবনদর্শন তুলে ধরেছেন।
আজ তিনি গুরুতর অসুস্থ, আল্লাহর দরবারে আমরা হাত উঠাই—যেন তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলেন।
আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি—-সারা জীবনে বাংলাদেশের মাত্র দুইজন ব্যক্তিকে আমি হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছি—একজন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, যিনি দেশকে মুক্তিযুদ্ধের পথে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন; অন্যজন বেগম খালেদা জিয়া, যিনি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার চেতনা বাঁচিয়ে রাখার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে চলেছেন।
অনেক নেতা-নেত্রী আসবেন এবং যাবেন, কিন্তু খালেদা জিয়ার মতো এতটা শক্তিশালী, ধৈর্যশীল ও ত্যাগী নেত্রী বাংলাদেশ আর কখনো দেখেনি, দেখবেও না।
তাই তাঁর সম্পর্কে আমি এই একটি কথাই বলতে পারি:
খালেদা জিয়াই বাংলাদেশ। তিনি শুধু একজন নেত্রী নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান, একটি ইতিহাস, একজন জীবন্ত legend।
লেখক : গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
১২৭ বার পড়া হয়েছে