নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘিরে রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, বিভাজন স্পষ্ট

শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক রোডম্যাপ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণা এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোট। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বক্তব্যে বলেন, “ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচন হবেই। এর কোনো বিকল্প নেই।” তিনি নির্বাচন বানচালের যেকোনো প্রচেষ্টাকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি একটি মধ্যপন্থী গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা।”
বিএনপির অন্যান্য নেতারাও রোডম্যাপকে সামনে রেখে নির্বাচনের প্রস্তুতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “কোনো কোনো পক্ষ বিভ্রান্তি তৈরি করছে। আমরা সেই বিভ্রান্তি কাটিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।”
তবে একই রোডম্যাপ নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এবি পার্টির মতো রাজনৈতিক দলগুলো। তাদের দাবি, নির্বাচনের আগে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং পিআর (প্রতিনিধিত্ব অনুপাত) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “এই রোডম্যাপ সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তড়িঘড়ি করে রোডম্যাপ ঘোষণা জনগণ মেনে নেবে না।”
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আবিদ বলেন, “জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং সংস্কার অগ্রগতির কোনো ঘোষণা ছাড়াই রোডম্যাপ প্রকাশ করাটা হতাশাজনক।”
এদিকে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে হলে আগে তার রোডম্যাপ দিতে হবে। কেবল নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা যথেষ্ট নয়।”
এবি পার্টিও জুলাই সনদের অধীনে নির্বাচন দাবি করে বলেছে, প্রয়োজনে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে গেলেও চলবে, তবে সুষ্ঠু ও প্রতিশ্রুতিশীল নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক ঐক্যমত্য না থাকলে ঘোষিত রোডম্যাপ বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে মতানৈক্য বিদ্যমান। রাজনৈতিক দলগুলো যখন এক কাতারে আসতে পারেনি, তখন কীভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে পারে। প্রশাসন মানসিকভাবে কতটা প্রস্তুত, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।”
রাজনৈতিক অঙ্গনের এই বিভাজনের মাঝে নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমঝোতা ও প্রস্তুতির ওপর।
৪১৪ বার পড়া হয়েছে