সাহিত্য
রক্তের স্পন্দন ও কলমের কারুকাজ: নীহাররঞ্জন গুপ্তের সৃজন-ভুবনে এক অন্তহীন পরিক্রমা
বাংলার ঝিরঝিরে বৃষ্টির কোনো এক অলস দুপুর কিংবা নিঝুম রাতের স্তব্ধতা বাঙালির মজ্জাগত রহস্যপ্রিয়তা যেন এই আবহে আরও গাঢ় হয়ে ওঠে।
মনুষ্যত্বের পচন
বিবেক-বুদ্ধি উইপোকার ঢিবি,
মরিচা ধরা নৈতিকতা;
সত্য আজ নতজানু হয়ে
খোঁজে হারানো মানবতা।
বৃষ্টির স্পর্শ
বৃষ্টির স্পর্শে,
ফিরুক প্রাণ মৃতপ্রায় নদীতে।
বৃষ্টির জলে,
ডুবে যায় যদি যন্ত্রণার মিছিল—
ক্ষতি কী বলো তাতে?
চাঁদের আকুতি
চাঁদের আকুতি নদীর বুকে
ঢেউ খেলে যায়,
নীরব রাতের ক্যানভাস জুড়ে
স্বপ্নেরা ভেসে বেড়ায়।
ভাল্লাগেনা
তুমি ছাড়া এখন আমার
সবকিছুতে শূন্য লাগে,
বুকের মাঝে ঢেউ খেলে যায়,
জমিন জুড়ে জ্বালা ধরায়,
কেউ যেনবা আচম্বিতে—
বিছিয়ে দেয় চিতার অনল।
যে জলে আগুন জ্বলে: দশকের দহন ও হেলাল হাফিজের কাব্যভাষা
বাংলা কাব্যের ইতিহাসে সত্তরের দশক এক অগ্নিগর্ভ সময়, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক ভাঙন এবং ব্যক্তিগত হতাশার এক জটিল আবর্তে নিমজ্জিত ছিল। এই দশকের আত্মজ দহনকে শিল্পসম্মত মূর্তিতে তুলে ধরার ক্ষেত্রে যে ক’জন কবির নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তাঁদের মধ্যে হেলাল হাফিজ অন্যতম।