সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

সুদানের আবিয়েইয়ে বাজারে ড্রোন হামলা, নিহত ১৫৩

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৫২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সুদানের সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় বিতর্কিত আবিয়েই অঞ্চলের একটি বাজারে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ সুদানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবারের এ হামলার পর বাজারটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে বহু মানুষের মরদেহ পুড়ে গেছে। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুদানের সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় বিতর্কিত আবিয়েই অঞ্চলের একটি বাজারে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সুদানের কর্মকর্তারা। সোমবারের এ হামলায় বাজারের বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে অনেকের মরদেহ পুড়ে যাওয়ায় সেগুলো উদ্ধার করতে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের।

আবিয়েই অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত তথ্যমন্ত্রী ইয়োহানা আকোল এনগর মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, সোমবার বাজারে হামলার পর প্রথমে ৭৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৩ জনে দাঁড়ায়। আগুন তখনো জ্বলছিল এবং মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছিল বলে জানান তিনি।

এনগর বলেন, ‘আগুন এখনো জ্বলছে। তাই নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজও চলছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ।’ আগুনে কয়েকজনের মরদেহ পুরোপুরি পুড়ে গেছে বলেও জানান তিনি। হামলার পর বাজারে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ ঘটনার কারণে প্রায় আট হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান এনগর।

মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে ধারণ করা একটি ভিডিও যাচাই করেছে রয়টার্স। ভিডিওতে পুড়ে যাওয়া ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া যানবাহন এবং ভবনের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। বাসিন্দারা ক্ষয়ক্ষতি দেখতে গেলে একটি ভবনে তখনো আগুন জ্বলছিল।

হামলার জন্য সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছেন এনগর। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রয়টার্স সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তিনজন কূটনীতিক, একজন ত্রাণকর্মী ও সংঘাতবিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামলায় বাজারের একটি জ্বালানি ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতীতে ডিপোটি আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) যোদ্ধাদের জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হতো বলে তাঁদের ভাষ্য। এ বিষয়ে আরএসএফের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

২০১১ সালে সুদান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে দক্ষিণ সুদান। এরপর থেকে তেলসমৃদ্ধ আবিয়েই অঞ্চলের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছে। অঞ্চলটি যৌথভাবে পরিচালিত হয়। এর সীমান্ত রয়েছে সুদানের কর্দোফান অঞ্চলের সঙ্গে। বর্তমানে কর্দোফান সুদানের যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংঘাতপূর্ণ এলাকা।

সুদানের সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকারের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেছেন, আবিয়েইয়ের কয়েকটি এলাকায় আরএসএফ সক্রিয় রয়েছে। তবে ওই অঞ্চলে আরএসএফের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেছেন এনগর। এসব দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী আবিয়েই নিরাপত্তা বাহিনী গত মে মাসে সতর্ক করে বলেছিল, ওই অঞ্চলে আরএসএফের উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অঞ্চলটির চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণে বিলম্বের কারণে সাধারণ মানুষ ও জাতিসংঘের কর্মীরা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও জানিয়েছিল সংস্থাটি।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক আবিয়েইসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সুদানজুড়ে একের পর এক ড্রোন হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আমরা এখনো গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

তিনি আরও বলেন, তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের ক্ষতি সামলাতে হিমশিম খাওয়া মানুষের ওপর এসব হামলা ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।

দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার গভীর রাতে জানিয়েছিল, আবিয়েই শহরের উত্তরে একটি বাজারে ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে তখন হতাহতের সংখ্যা জানানো হয়নি। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে বলেও জানায় মন্ত্রণালয়।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি পরপর পাঁচটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এরপরই জ্বালানির বাজারটিতে আগুন ধরে যায়। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘মানুষ আহতদের সরিয়ে নিতে শুরু করে। তাদের পেট ও পায়ে বিস্ফোরণের টুকরার আঘাত লেগেছিল। একটি জায়গায় আমি আগুনে পুড়ে যাওয়া ২৮টি মরদেহ দেখেছি।’

ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, বাজারে আরএসএফ বা অন্য কোনো বাহিনীর ইউনিফর্ম পরা যোদ্ধা তিনি দেখেননি। বাজারটিতে চিনি, ময়দা ও বিস্কুটের মতো পণ্য বিক্রি হতো। এসব পণ্য সুদানে পাঠানো হয়।

২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘাতে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বিদেশি শক্তিও জড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ড্রোন হামলা বেড়েছে।

চলতি সপ্তাহে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে থাকা নিয়ালা শহর এবং সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা খার্তুম বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে। স্থানীয় জরুরি সাড়া প্রদানকারী দলের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সুদানের পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যে ড্রোন হামলায় প্রায় ৮৪ জন নিহত ও ৬৫ জন আহত হন। রাজ্যটির বড় অংশ আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সোমবার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা খার্তুম বিমানবন্দরে একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে চার শিশু নিহত হয়। অন্যদিকে, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আরএসএফের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নিয়ালা শহরের একটি বাজারে হামলায় ২৩ জন নিহত ও ৪৪ জন আহত হন।

চাদের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, সুদানের সেনাবাহিনী দেশটির ভূখণ্ডেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, চাদের ভূখণ্ড নিয়মিতভাবে আরএসএফের রসদ সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়।

সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত আগস্টের শেষ দিকে জানিয়েছিল, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী কাজ করছে। গত ১০ অক্টোবর সুদান ও মিসরের সীমান্তের কাছে এক বিমান হামলায় ৭০ জনের বেশি খনিজ উত্তোলনকারী শ্রমিক নিহত হন বলে জানিয়েছে একটি স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা।

আবিয়েই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতা চলছে। এসব সংঘর্ষে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক হামলাটিকে কয়েক বছরের মধ্যে অঞ্চলটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে। অঞ্চলটিতে চিকিৎসাসামগ্রী ও স্বাস্থ্যসেবারও ঘাটতি রয়েছে।

দক্ষিণ সুদানের সরকার জানিয়েছে, প্রতিবেশী সুদানের যুদ্ধে তারা কোনো পক্ষ নেয়নি। তবে কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, আরএসএফের রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে আবিয়েই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে অঞ্চলটির ভূমিকা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা মেদসাঁ সঁ ফ্রন্তিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, কাছের আমেথ বেক হাসপাতালে তারা ২০ জনের বেশি আহত ব্যক্তির চিকিৎসা দিচ্ছে। তাঁদের কয়েকজন আগুনে পুড়ে আহত হয়েছেন।

হাসপাতালটিতে এমএসএফের চিকিৎসা কার্যক্রমের ব্যবস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডাউয়ার বলেন, ‘আমরা অস্ত্রোপচার, ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করা এবং অন্যান্য জরুরি চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি।’

এমএসএফের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার সময় ব্যান্ডেজ বাঁধা কয়েকজন রোগী হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে আছেন।

১৪৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০