মহাসপ্তমীর উৎসব আজও, পূজায় মুখর রাজধানী
রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
শারদীয় দুর্গাপূজায় গতকাল শনিবার মহাসপ্তমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সকালে কলাবউ স্নান, নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের পূজার আনুষ্ঠানিকতা। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন মণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে। এবার সপ্তমী তিথি দুদিন পড়ায় আজ রোববারও মহাসপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ফলে প্রচলিত পাঁচ দিনের পরিবর্তে ছয় দিন চলবে দুর্গাপূজার আয়োজন।
শারদীয় দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন মহাসপ্তমী। এদিন সকালে মণ্ডপ ও মন্দিরের কাছের জলাশয়ে অনুষ্ঠিত হয় কলাবউ স্নান বা নবপত্রিকা স্নানের রীতি। এর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার নবপত্রিকায় প্রবেশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নয়টি ভিন্ন গাছকে দেবীর নয়টি রূপ বা নবদুর্গার প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়।
গতকাল শনিবার সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। এ সময় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদানের মাধ্যমে প্রাণপ্রতিষ্ঠার আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমীবিহিত পূজা। পূজা শেষে ছিল পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগ আরতি। অনেক মণ্ডপে স্বেচ্ছায় রক্তদান, দরিদ্র মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ, নৃত্যনাট্য, ভক্তিমূলক সংগীত ও নাটকের আয়োজন করা হয়।
সারা দেশের মতো রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোও ঢাক-ঘণ্টার বাদ্য ও ভক্তদের পূজা-অর্চনায় মুখর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষও উৎসবে অংশ নেন। এতে পূজামণ্ডপগুলো বাঙালির সর্বজনীন উৎসবের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির মণ্ডপেও ছিল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়। পূজা শেষে সেখানে পুষ্পাঞ্জলি, আরতি ও ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
সপ্তমী তিথি দুদিন হওয়ায় আজ রোববারও মহাসপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিন সকাল ৬টা ২২ মিনিটের মধ্যে দেবীর শুক্লা সপ্তমীবিহিত অধিক পূজা সম্পন্ন হওয়ার কথা। আগামী বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ছয় দিনের শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধবভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর জন্য ২৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।
গতকাল পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার স্বাক্ষরে পাঠানো এক চিঠিতে এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়। নির্দেশনায় উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার, আতশবাজি ও পটকা ফোটানো এবং অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহারের কথা বলা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধারও প্রতীক। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে হবে।
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
পুলিশপ্রধান বলেন, পূজাকে ঘিরে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে এবং গুজব থেকে দূরে থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে পাঁচ থেকে সাত দিন পুলিশের কোনো কার্যক্রম ছিল না। তখন কারও নিরাপত্তা ছিল না। ওই সময়ে ছিনতাই, রাহাজানি ও ডাকাতিসহ নানা ধরনের অঘটন ঘটেছে। তবে সবার সহযোগিতায় পুলিশ সেই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় নেতারা শনিবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ভক্ত ও পূজারিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পূজামণ্ডপ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাসদের সহসভাপতি শফি উদ্দিন মোল্লা ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত রায়হানসহ অন্য নেতারা।
১৮৪ বার পড়া হয়েছে