সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাকে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও দক্ষ, পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে নিজের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি সেনা পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর ইউনিটগুলোকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দেওয়া হয়েছে, যাতে সদস্যরা নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। পতাকার মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে এই বাহিনীর সুনাম ও পেশাদার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্র হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তিনি ২৬ মার্চ স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা দেন এবং পরদিন ২৭ মার্চ পুনরায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। স্বাধীনতাপ্রিয় বাংলাদেশের জনগণ সশস্ত্র বাহিনীর যেকোনো গৌরব ও সাফল্যকে দেশের সামগ্রিক সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান পরিবর্তনশীল ভূরাজনীতি ও সামরিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা পরিবেশ ও যুদ্ধের ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণভাবে প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা অনুযায়ী ‘ওয়ান র্যাংক, ওয়ান পেনশন’ নীতি বাস্তবায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় আত্মমর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা হবে।
এর আগে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান, সন্ত্রাস দমন এবং শান্তিরক্ষা মিশনসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন তিনি।
এ বছর জাতীয় পতাকা পাওয়া ইউনিটগুলো হলো ৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট।
১৯৯ বার পড়া হয়েছে