প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:০৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি তাঁদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, চিকিৎসাসেবা, আইনি সহায়তা ও চলাচলের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও সরকার কাজ করবে বলে জানান তিনি।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তাঁদের ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো সরকার ও সমাজের দায়িত্ব উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের অধিকার, মর্যাদা ও প্রয়োজন যথাযথভাবে বিবেচনা করা জরুরি। অতীতে এ ক্ষেত্রে যেসব ঘাটতি ছিল, সেগুলো পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আদালতে সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিভা বিকাশ এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।
এ বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যোগাযোগের সমস্যা দূর করতে হাসপাতালগুলোতে সাংকেতিক ভাষা জানা ব্যক্তিদের রাখার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণপরিবহনে তাঁদের যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীদের জন্য পিংক বাসসেবা আরও উপযোগী করার পাশাপাশি ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে প্রতিবন্ধীবান্ধব বাস চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সমাজকল্যাণ, আইন এবং নারী ও শিশুবিষয়ক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে তাঁদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় সভায় ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তাঁরা নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
এ সময় মো. মহসিন নামের এক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি ক্যাপ উপহার এনেছেন বলে জানালে মঞ্চ থেকে নেমে এসে সেটি গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এ ছাড়া বিদেশে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর দলকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত বক্তাদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
১১৮ বার পড়া হয়েছে