গ্রামীণ জনপদে ঘরে ঘরে ডায়াবেটিসের চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো হবে: এ কে আজাদ খান
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:১০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদের মানুষের দোরগোড়ায় ডায়াবেটিস চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সচেতনতামূলক সেবা পৌঁছে দিতে শিগগিরই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। তিনি বলেন, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেছেন, দেশের গ্রামীণ জনপদের মানুষের দোরগোড়ায় ডায়াবেটিস চিকিৎসা ও সচেতনতামূলক সেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি অচিরেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
শহরকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবাকে দ্রুত গ্রামাঞ্চলে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলাও জরুরি।
আজ ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইএইচএস হাসপাতালে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আজাদ খান বলেন, “দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসাসেবাও ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে এখনো ডায়াবেটিসের অধিকাংশ চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা শহরাঞ্চলকেন্দ্রিক। এই সেবাকে দ্রুত গ্রামীণ জনপদে নিয়ে যেতে হবে। মানুষের ঘরে ঘরে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে হবে।”
তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো ডায়াবেটিস সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতন নন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেকে সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারেন না এবং চিকিৎসা গ্রহণেও বিলম্ব করেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্রোগ, কিডনি জটিলতা, চোখের সমস্যা, স্নায়ুজনিত জটিলতাসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সচেতনতার অভাবে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “ডায়াবেটিসকে শুধু একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ হিসেবে দেখলে হবে না; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তাই রোগ শনাক্তকরণ, নিয়মিত চিকিৎসা, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা—সবকিছুকে সমন্বিতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষও যেন প্রয়োজনীয় ডায়াবেটিস চিকিৎসা ও পরামর্শ সহজে পান।”
তিনি জানান, রাজধানীর বারডেমে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মিরপুরের বিআইএইচএস ভবনের আওতায় বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে রোগীদের জন্য চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের জন্য ডায়াবেটিস চিকিৎসা, প্রতিরোধ ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব। বক্তব্য দেন সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ সরকারের সিনিয়র সচিব শহিদুল ইসলাম, ন্যাশনাল কাউন্সিল সদস্য মতিউর রহমান লাল্টু, হেমায়েত উদ্দিন, ওয়াহিদুল ইসলামসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় ডায়াবেটিস চিকিৎসাসেবার সম্প্রসারণ, রোগ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
২০৯ বার পড়া হয়েছে