সর্বশেষ

জাতীয়

আজ দুর্গার বোধন, কাল থেকে শুরু দুর্গোৎসব

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:২৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
আজ বৃহস্পতিবার শারদীয় দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আচার দেবী দুর্গার বোধন। সন্ধ্যায় ষষ্ঠীর আগের তিথি পঞ্চমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে বেলশাখায় বোধনপূজার মধ্য দিয়ে দেবীকে জাগ্রত করার বন্দনা করা হবে। আগামীকাল শুক্রবার ষষ্ঠীবিহিত পূজা, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে দুর্গোৎসব। তিথির বিশেষ বিন্যাসের কারণে এবার ছয় দিন ধরে চলবে শারদীয় দুর্গাপূজা।

শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দক্ষিণায়নে নিদ্রিত দেবীকে জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে এই আচার পালন করা হয়। পঞ্চমী তিথির সন্ধ্যায় মণ্ডপে ও মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে বোধনপূজা।

বোধন শব্দের অর্থ জাগরণ বা চৈতন্যপ্রাপ্তি। শরৎকালে দুর্গাপূজার আগে বেলশাখায় দেবীর বোধন করা পূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ আচার। পুরাণ অনুসারে, রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করার উদ্দেশ্যে ভগবান রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন। প্রচলিত সময়ের বাইরে এই পূজা করা হয়েছিল বলে এর নাম অকালবোধন। অন্যদিকে, চৈত্র মাসে অনুষ্ঠিত বাসন্তীপূজায় বোধনের প্রয়োজন হয় না।

আজ বোধনের পর আগামীকাল শুক্রবার মহাষষ্ঠীর পূজা, দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক দুর্গোৎসব। প্রচলিত নিয়মে মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হলেও এবার তিথির বিশেষ বিন্যাসের কারণে উৎসব চলবে ছয় দিন।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী শনিবার মহাসপ্তমী এবং রোববারও মহাসপ্তমীর অতিরিক্ত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার পালিত হবে মহাষ্টমী ও কুমারীপূজা। মঙ্গলবার মহানবমীর পূজা শেষে বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আগমন করবেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এর ফল ফসল ও শস্যের ক্ষতি। অন্যদিকে, দেবী নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন, যার ফল হিসেবে শস্যবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৩৫৫। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার ৪৯৬টি মণ্ডপ বেড়েছে।

তবে ঢাকা মহানগরীতে এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা কমেছে। এ বছর রাজধানীতে ২৫৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৬১। রাস্তার ওপর পূজার আয়োজনের অনুমতি না পাওয়ায় এবার তিনটি মণ্ডপ কমেছে।

শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। গতকাল বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, পুলিশ, ড্রোন এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কঠোর পাহারায় সারা দেশে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিকে দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছে তারা।

ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু পূজার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের জন্য আয়োজক ও দর্শনার্থীদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। গতকাল বুধবার পুলিশ সদরদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী, পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র রাখতে হবে। নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আলাদা পোশাক, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র এবং ‘স্বেচ্ছাসেবক’ লেখা হাতবন্ধনী নিশ্চিত করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনা বা তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা যাচাই না করে পছন্দ, মন্তব্য বা শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে পূজা উদ্‌যাপনের সময় অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে আজান ও নামাজের সময় মসজিদের আশপাশের পূজামণ্ডপে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকেও বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারিত পথ অনুসরণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত স্থানে বিসর্জন কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ।

জরুরি প্রয়োজনে যেসব নম্বরে যোগাযোগ করবেন
পূজা চলাকালে জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা পেতে পুলিশ সদরদপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর প্রকাশ করেছে পুলিশ।

পুলিশ সদরদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর ০২২২৩৩৮০৬৬১, ০২২২৩৩৮১৯৬৭, ০১৩২০০০১২৯৯ ও ০১৩২০০০১৩০০। ঢাকা মহানগর পুলিশের নম্বর ০২২২৩৩৫৫৫০০ ও ০১৮১৭৬০২০৫০।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যোগাযোগ করা যাবে ০২৯৬১১৩৫৩ ও ০১৭০৫৫০৫৫২৯ নম্বরে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর ০২২২৩৩৫৫৫৫৫, ০১৭১৩০৩৮১৮১, ০১৭১৩০৩৮১৮২ ও ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।

এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে বিনা মূল্যে ফোন করে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা নেওয়া যাবে। জেলা পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যোগাযোগ নম্বর জানতে বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইট দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

২১১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০