সর্বশেষ

জাতীয়

দুর্গাপূজার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, চলছে নির্মাণ-সাজসজ্জা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:২৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
আর মাত্র দুদিন পর শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমা নির্মাণ ও রং করার কাজ চলছে, কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজানো, প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জা। তবে উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় পূজার আয়োজনের ব্যয় কমাতে হচ্ছে আয়োজকদের। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে বাড়তি নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

রাজধানীসহ সারা দেশে শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা ও আনুষঙ্গিক কাজ। গত তিন দিনে রাজধানীর কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

প্রতিমাশিল্পীরা বাঁশ, খড় ও মাটির কাঠামোয় দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের প্রতিমা তৈরি করছেন। কোথাও চলছে মাটির প্রলেপ দেওয়া, কোথাও প্রতিমায় রং তুলছেন শিল্পীরা। পাশাপাশি মন্দির ও মণ্ডপ পরিষ্কার করা, সংস্কার, রং করা, প্যান্ডেল ও মঞ্চ নির্মাণের কাজও চলছে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও অধিকাংশ মন্দির ও মণ্ডপে পূজার মেলা বসবে। এ আয়োজন ঘিরেও চলছে প্রস্তুতি।

আগামী ১৬ অক্টোবর শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে দুর্গাপূজা। গত মঙ্গলবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। পূজার নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় মহাপঞ্চমীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল পূজা।

১৭ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৮ অক্টোবর অধিক তিথিতে সপ্তমীর পূজা, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা এবং ২০ অক্টোবর মহানবমী পালিত হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। মহাসপ্তমীর তিথি দুই দিন হওয়ায় এবার প্রচলিত পাঁচ দিনের পরিবর্তে ছয় দিন ধরে চলবে উৎসব।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন। এর ফলে ফসল ও শস্যহানির আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, দেবী নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে গমন করবেন। এর ফল হিসেবে শস্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দুর্গোৎসব ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। অন্যান্য বছরের মতো এবারও মন্দির মিলনায়তনের বারান্দায় খোলা শেডের নিচে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। মন্দিরের সামনের মাঠে প্যান্ডেল নির্মাণ ও মন্দির সাজানোর কাজও শুরু হবে।

এ মন্দিরের প্রতিমা নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন প্রতিমাশিল্পী সুকুমার পাল। রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এ শিল্পী ১৯৮৯ সাল থেকে মাঝখানে চার বছর বিরতি দিয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রতিমা নির্মাণ করে আসছেন।

একইভাবে প্রস্তুতি চলছে রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের পূজামণ্ডপে। সেখানে দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজার আয়োজন ঘিরেও প্রস্তুতি চলছে।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন রমনা কালীমন্দির ও শ্রীমা আনন্দময়ী আশ্রমের পূজামণ্ডপেও চলছে প্রতিমা নির্মাণের কাজ। মূল মণ্ডপের সাজসজ্জার পাশাপাশি মন্দির ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঠে আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে। মন্দিরসংলগ্ন পুকুর সাজানোর পাশাপাশি প্রধান প্রবেশগেট নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে।

এ মণ্ডপের প্রতিমা তৈরি করছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার প্রতিমাশিল্পী রতন পাল ও তাঁর ভাই বিবেকানন্দ পাল। তাঁদের তত্ত্বাবধানে রমনা কালীমন্দিরের প্রতিমার পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর আরও পাঁচটি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে মহাষষ্ঠীর আগেই প্রতিমাগুলো সংশ্লিষ্ট মণ্ডপে পাঠানো হবে।

রমনা কালীমন্দিরে গত ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে প্রতিমা নির্মাণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রতন পাল সমকালকে বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে এবার প্রতিমা নির্মাণসহ পূজার সার্বিক ব্যয় অনেক বেড়েছে। খড়, রং, বাঁশ, কাঠ, মাটি ও কাপড়সহ বিভিন্ন উপকরণ আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে।

পুরান ঢাকার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপেও চলছে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত এ এলাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, সূত্রাপুর, শ্যামবাজার, কোতোয়ালী রোড, ঋষিপাড়া দুর্গামন্দির, প্যারীদাস রোড, কলতাবাজার, মুরগিটোলা, মদনমোহন দাস লেন, বাংলাবাজার গোয়ারনগর, জমিদারবাড়ি ও গেন্ডারিয়ার বিভিন্ন অলিগলিতে পূজার আয়োজন চলছে।

পূজার আয়োজনের ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন আয়োজকেরা। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, পূজার প্রস্তুতি ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আয়োজনের ব্যয়ও বেড়েছে। এ কারণে গতবারের তুলনায় সব মন্দির ও মণ্ডপে অন্তত ১০ শতাংশ ব্যয় কমাতে হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গত দুই বছরের তুলনায় এবার প্রতিমা ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা অনেক কম। কোনো ঘটনা ঘটলে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া শঙ্কা দূর করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা আয়োজকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

গোপাল চন্দ্র দেবনাথ জানান, ঢাকা মহানগরীর ৩৪টি ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপের তালিকা পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। এসব মণ্ডপে বাড়তি নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারক ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর ১৮ জন সংসদ সদস্য এবং সারা দেশের সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন তাঁরা। শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা আয়োজন ও সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

১৩৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০