দিল্লিতে বিক্ষোভ: যন্তর মন্তরে সিজেপির তিন নেতা গ্রেপ্তার
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:২২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে বিক্ষোভ করার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্ডেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়ার পর তাঁদের আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ ও সরকারি কর্মকর্তার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া তিন নেতা হলেন সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্ডে। যন্তর মন্তরে প্রবেশের পর তাঁরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।
তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে তাঁদের মান্দির মার্গের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, এর আগে একই ধরনের বিক্ষোভের ঘটনায় আটক হওয়ার পর তাঁদের কয়েকজন ৫০ হাজার রুপির মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছিলেন। এ সময় এক বছরের জন্য শান্তিভঙ্গের ঘটনায় জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকারও করেছিলেন তাঁরা। তবে এবার মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ তাঁদের পুনরায় একই ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।
আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার অভিযোগ
সিজেপির আইনজীবী দলের প্রধান রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া তিন নেতাকে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় রাখা হয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, নেতাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ ও সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রত্না সিংয়ের দাবি, রাত ৩টার দিকে একটি ব্যক্তিগত ভ্যানে করে ওই তিন নেতাকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নেওয়া হয়। সকালে তাঁদের এসসিএম আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। পরে তাঁদের তিহার কারাগারে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রত্না সিং এসব পদক্ষেপকে বেআইনি বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের মনোবল এখনো অটুট রয়েছে।
দিল্লিতে বিক্ষোভের স্থান নির্ধারণ নিয়ে বিরোধের মধ্যেই সিজেপির তিন নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এক আদেশে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি ময়দানকে বিক্ষোভ ও সমাবেশের নির্ধারিত স্থান হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে অনুমোদিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে যন্তর মন্তরের নাম বাদ দেওয়া হয়।
পুলিশের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে সিজেপি। দলটির বক্তব্য, রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে নিলে সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিবাদের বার্তা পৌঁছানোর সুযোগ এবং কর্মসূচির প্রভাব কমে যাবে।
নির্বাচনী বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বিতর্ক, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি এবং বিক্ষোভের স্থান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। এর মধ্যেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ঘটনায় সিজেপির তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলো।
১২৭ বার পড়া হয়েছে