প্রবাসীদের বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রবাসীদের দেশে পাঠানো অর্থ ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের কাজ খসড়া পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। জনমত যাচাই শেষে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব তোলার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।
প্রবাসীদের দেশে পাঠানো অর্থ ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এসব আদালতে শুধু প্রবাসীদের মামলা পরিচালনার ব্যবস্থা রাখার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সোনার মানুষ সম্মিলন’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভাগীয় সদর দপ্তরগুলোতে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব আদালত প্রবাসীদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। প্রবাসীদের মামলাগুলো যাতে বিশেষায়িত আদালতেই নিষ্পত্তি করা যায়, সেই পরিকল্পনাও রয়েছে।
আসাদুজ্জামান বলেন, দেশে শ্রমিকদের জন্য শ্রম আদালত থাকলেও প্রবাসীদের জন্য আলাদা কোনো আদালত নেই। বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানোর পর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সেই টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে কিংবা দেশে সম্পত্তি কেনার পর বিরোধ তৈরি হলে প্রবাসীদের দীর্ঘদিন মামলা চালাতে হয়।
এতে বিদেশে অবস্থান করেও বছরের পর বছর আইনজীবীদের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রে মামলা নিষ্পত্তির আগেই বাদীর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর ওয়ারিশদের মামলা চালিয়ে যেতে হয় বলেও জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আদালত গঠনে আইন প্রণয়নের কাজ এখন খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত জনমত যাচাই করে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।
অভিবাসী শ্রমিকদের সংকটের পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের দায়ী করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইতিমধ্যে পাঁচ হাজার ভিসা বাতিল হয়েছে। আরও অনেকের ভিসা নবায়নের বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।
এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এমন কিছু নথি জমা দেওয়া হচ্ছে, যেগুলোর সত্যতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সহজেই যাচাই করা যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের সনদও জমা দেওয়া হচ্ছে।
এ ধরনের অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান তিনি। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে।
প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার আইনি সহায়তা কর্মসূচি চালুর কথা জানান আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের প্রাথমিক আইনি পরামর্শ দেওয়ার জন্য লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তারাও যুক্ত রয়েছেন।
আইনি পরামর্শের পাশাপাশি মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রবাসীরা কম হয়রানির শিকার হন। এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করতে রামরুর প্রতিও আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।
বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অমানবিক কর্মপরিবেশ ও মজুরি বৈষম্যের বিষয়টিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের সকালে বাথরুম ব্যবহারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। এরপর কর্মস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে সারাদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়। বাসায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা এবং রান্নার কাজও তাঁদের করতে হয়।
এত পরিশ্রমের পরও অন্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকেরা অনেক ক্ষেত্রে কম মজুরি পান বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বৈষম্য কমানোর বিষয়ে আরও কাজ করা প্রয়োজন বলেও জানান আইনমন্ত্রী।
১৯০ বার পড়া হয়েছে