৬ বছর পর পাগলা মসজিদে মুদ্রা গণনা চলছে, স্বর্ণ-রূপা নিলামের প্রস্তুতি
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:১৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সর্বশেষ গণনার ছয় বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে জমা হওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের ওজন নির্ধারণ, বৈদেশিক মুদ্রা গণনা এবং নিলামে বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নয়টি মাঝারি আকারের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালাকৃত খাম খুলে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
এর আগে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারি থেকে স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারগুলো কড়া পুলিশি পাহারায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনা হয়।
পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের নেতৃত্বে অলঙ্কার গণনা ও নিলামে বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ।
স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা এবং অলঙ্কারের ওজন নির্ধারণের সময় সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন এসআরবি সদস্য। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছয়জন কর্মচারী, মসজিদের কর্মচারী, জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ কাজে সহযোগিতা করছেন।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের ওজন নির্ধারণের পর বাজারমূল্য ঠিক করা হবে। এরপর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে এসব অলঙ্কার নিলামে বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রাগুলো দেশভিত্তিক আলাদা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, দানবাক্স খোলার পর পাওয়া টাকা রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়। অন্যদিকে, স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার সিলগালা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়।
এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে পাওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার সর্বশেষ নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। ওই নিলামে প্রায় তিন বছর ধরে দানসিন্দুকে জমা হওয়া ৪২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১৮৮ ভরি রুপা বিক্রি করে ১ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১২০ টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়া দানসিন্দুকে জমা হওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে পাওয়া গিয়েছিল ৭০ লাখ টাকা।
২০২০ সালের ১১ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ বার পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৭ জুন দানবাক্স খোলা হয়।
বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। এ ছাড়া মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে এ পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে