রিয়াদে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, ১৩ ওমরাহ যাত্রী ও ১১ কর্মী আহত
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ জন বাংলাদেশি। আহতদের মধ্যে ১১ জন কর্মী ও ১৩ জন ওমরাহযাত্রী। তাঁদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে তিনজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১১ জন কর্মী ও ১৩ জন ওমরাহযাত্রী রয়েছেন। তাঁরা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এর ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়ে। এতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা হতাহত হন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মোট ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি এবং আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ জন বাংলাদেশি রয়েছেন।
দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে তিনজন কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে।
আইসিইউতে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন হাফেজ হাসান (ঢাকা), কাজী নুরুল্লাহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এবং সৌদি প্রবাসী কর্মী মো. ওমর ফারুক।
দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাফকাত রহমান (নওগাঁ) ও মো. দাউদুল ইসলাম (কুমিল্লা)। তাঁদের মধ্যে সাফকাত রহমান অচেতন অবস্থায় আছেন।
রিয়াদ মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঢাকার মো. সাইমুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকার মো. আব্দুল্লাহ।
ঢাকার আরমান হোসেনসহ তিন বাংলাদেশি কর্মী সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় চিকিৎসাধীন। কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. রফিক মিয়া।
এ ছাড়া কিং খালেদ মেডিক্যাল সিটিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ইসমাইল হোসাইন, মো. মিসবাহ উদ্দিন হীরক ও মো. রায়হানুল ইসলাম।
প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি কর্মী হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ এবং সোহবে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার।
এজতাহ সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল। সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন নাজমা আক্তার। অন্যদিকে সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল।
দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিরা সবাই রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে ট্রানজিটে অপেক্ষা করছিলেন।
হামলার পর বাংলাদেশ থেকে আসা এবং রিয়াদ হয়ে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৫০০ যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েন। এ ছাড়া রিয়াদ থেকে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরাও আটকে পড়েন। তাঁদের সহায়তায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
টার্মিনাল-৩-এ সৌদিয়া এয়ারলাইনসের এসভি৮০৪, রিয়াদ এয়ারের আরএক্স১৭ এবং ইউএস-বাংলার ইউএস২৮১ ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে আসা যাত্রীদের পাশাপাশি ফ্লাইনাস, ফ্লাইএডিল ও ফ্লাইরিয়াদে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ১০০ জন যাত্রীর আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের মেরিয়ট হোটেল, রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরামের পোশাক পরে আসা ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি-৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী দুই বাংলাদেশি কর্মীকে আলখোবার স্থলবন্দর দিয়ে বাহরাইন যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে দূতাবাস।
১৪২ বার পড়া হয়েছে